সৌরভ মাহমুদ হারুন : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্র পুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধ কে কেন্দ্র ঝগড়া লাগলে ৯৯৯ লাইনে কল করলে পুলিশ এসে উভয় পক্ষের বিরোধ মিমাংসা করার সময় ( দায়িত্ব পালনকালে) মো. ফোরকান নামের এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ৩ জুন রাতে উপজেলার রামচন্দ্র পুর গ্রামে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার তার কুলের এক বছরের শিশু মেয়ে মিম এবং নেয়ামুল কবিরের স্ত্রী শেফালী বেগম।তার সঙ্গে থাকা শিশুকে ও পুলিশ কোর্টে জালান করেন। এদিকে পরিবারের সদস্য জালাল উদ্দীন দয়াল অভিযোগ করে বলেন আমাদের পরিবার হল পুলিশ ফ্যামিলি। আমাদের পরিবারের দুই মহিলা কে আইনীবহির ভূত ভাবে পুরুষ পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে রাত ১০ করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযোগ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তদন্তে যায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।
পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফোরকানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় ৯৯৯-এর কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং লিজা আক্তারের এক বছরের শিশু মিম সহ বৃহস্পতিবার তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
