এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান : নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ি এলাকায় ‘মামা-ভাগ্নী’ পরিচয়ে বসবাসের আড়ালে একটি ভাড়া বাসায় সন্দেহজনক ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবক-যুবতীকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (১ জুন) দুপুরে কোমাইগাড়ি মৌজার ডিসি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা মকবুল প্রামাণিকের চারতলা ভবনের ৯ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে ‘শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে আবিবা আক্তার সুরভি নামের এক তরুণী ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। এরপর থেকে সেখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অচেনা লোকজনের যাতায়াত দেখা যেতে থাকে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, বাসাটিতে আগত ব্যক্তিদের অনেকেই নিজেদের কখনো মামা, কখনো খালু, ফুফা বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ বাড়তে থাকে এবং তারা নজরদারি শুরু করেন। মেয়েটি সাদা ক্যামেল সিগারেটও ধুমপান করে বলেও স্থানীয়রা জানায়।
ঈদের সময়ও ওই তরুণী গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে, ভাড়া বাসায় অবস্থান করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় বলে জানান এলাকাবাসী। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা হয় এবং অচেনা কেউ এলে তাদের পরিচয় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুন দুপুরে মহাদেবপুর থানার চন্দাস ইউনিয়নের মেহেরবান নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বেও তিনি সেখানে কয়েকবার যাতায়াত করেছেন।
পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে তাকে ওই কক্ষে অবস্থানকালে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ‘মামা’ পরিচয় দেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। তবে তারও মেয়েটির দেওয়া তথ্য অসংলগ্ন হওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা উভয় পক্ষের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিচয় নিয়ে দ্বিমত দেখা যায় বলে জানা যায়। পরে জানা যায়, আটক যুবক মহাদেবপুর উপজেলার চন্দাস ইউনিয়নের আব্দুর সোবানের ছেলে এবং সে পেশায় একজন স্বর্ণকার ব্যবসায়ী এবং বিবাহিত।
এ বিষয়ে আটক যুবক মেহেরবান আলী দাবি করে, সে ওই তরুণীকে সহযোগিতা করতে ও কিছু ব্যক্তিগত কাজে এখানে এসেছিল।
অন্যদিকে তরুণী আবিবা আক্তার সুরভি জানায়, যুবকটি তার পূর্বপরিচিত এবং পারিবারিকভাবে যোগাযোগ ছিল। সে বলে, তার মাকে অনেক আগেই তার বাবা ডিভোর্স দিয়েছে। তার পড়াশোনা, বাসাভাড়া,খাওয়া খরচসহ অনেক কিছু এই ছেলেটি বহন করে আসছে। তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে, পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয়পক্ষকে সতর্ক করে, ছেলেটিকে ছেড়ে দেয় এবং অন্যদিকে মেয়েটিেও বাড়ীর মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বলে এবং মেয়েটি বাসা ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
