সিদ্ধিরগঞ্জে চুরির অপরাধে জনি নামের এক ব্যক্তির হাত-পা ভেঙ্গে দিলো নজরুল ইসলাম ও ফরিদ মাস্টার গং
এসএম মিরাজ হোসাইন টিপুঃ
সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হাজী নজরুল ইসলামের বাড়িতে বিদ্যুতের তার চুরির অপরাধে সিদ্ধিরগঞ্জ আটি হাউজিং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আইনাল হকের ছেলে জনি (৩৫) কে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে নজরুল ইসলাম ও ফরিদ মাস্টার বাহিনী।
এলাকার স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আটি হাউজিং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জনি (৩৫) সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং আবাসিক এলাকার ৭ নং গলির হাজী নজরুল ইসলামের বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরি করে কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিক হাজী নজরুল ইসলাম, জনিকে আটক করে একই এলাকার ফরিদ মাস্টার সহ আশেপাশের স্থানীয় প্রতিবেশীদের ডেকে জনিকে সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং কমিটির অফিসে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে এবং তার হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে।
জনির চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী জনির বাবা আইনাল হক বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানাগেছে।
অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয় বিবাদী ১। নজরুল (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, ২। আবু তাহের (৩০), ৩। আবু বক্কর (২৭), উভয় পিতা- সিরাজুল, ৪। ফরিদ মাষ্টার (৬০), পিতা- অজ্ঞাত, ৫। মোহন (৪০), পিতা- অজ্ঞাত, ৬। আহম্মদ (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, সর্ব সাং-সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, সহ অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জন সহ ১-৬ নং বিবাদী ও অজ্ঞাতনামা বিবাদীগন উসৃঙ্খল, খারাপ প্রকৃতির বটে।
বিবাদীগন অত্র এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে নানান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘঠিত করে। বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেউই কিছু বলতে সাহস পায়না। অনুকুলে আমার ছেলে জনি (৩৫) আমাদের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আটি এলাকায় শান্তিপূর্নভাবে বসবাসরত আছে।
এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৫/০৬/২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় আমার ছেলে হাউজিং ৭নং গলিতে অবস্থানকালে ১-৬ নং বিবাদীগন, ১নং বিবাদীর ৩ ছেলে এবং অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জন উসৃঙ্খল, খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তিগন আমার ছেলেকে উদ্দেশ্য প্রনদিতভাবে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে ১-৬ নং বিবাদীগন সহ অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জন বিবাদী আমার ছেলেকে মুখে গামছা বাধিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র এস এস পাইপ, লোহার রড, কাঠের ডাসা দিয়া এলোপাথারি আঘাত করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
এরপর ও বিবাদীগন ক্ষান্ত নাহয়ে আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের সকল স্থানে আঘাত করিয়া মারাত্মক রক্তপাত ঘটায়, এমনকি আমার ছেলের বাম চোখে গুরুতর জখম করিয়া ডান পায়ে লোহার রড দিয়া আঘাত করিয়া পা ভাঙ্গিয়া ফেলে। অতঃপর বিবাদীগন আমার ছেলেকে মৃত ভাবিয়া হাউজিং ০৭ নং গলিতে ফালাইয়া রাখে। আমি সংবাদ পাইয়া তৎক্ষনাত ঘটনাস্থলে গমন করিলে বিবাদীগন সংঘবদ্ধভাবে আমাকে সহ আমার সহকারীদের উপরেও হামলার চেষ্টা চালায় এবং হুমকি ধামকি দেয়।
পরবর্তীতে আমার ছেলেকে আমি বর্নিত স্থান হইতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করিয়া খানপুর ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখিয়া বর্নিত স্থান হইতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করিতে রেফার করেন।বর্তমানে আমার ছেলে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যু সজ্জায় আছে, অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
এমতাবস্থায় আমি ১-৬ নং বিবাদী সহ অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জন দুষ্কৃতিকারীদের এরুপ ঘৃন্য কর্মকান্ডে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রন্থ হইয়া পরিয়ছি। বর্নিত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহন সহ ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিলাম।
উক্ত ঘটনায় এলাকার স্থানীয়রা মনে করেন, যে কোন অপরাধের শাস্তি প্রদানের জন্য দেশে প্রচলিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ পুলিশ প্রশাসন রয়েছে এবং সকল প্রকার অপরাধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচার সালিশী সহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ব্যতীত ব্যক্তিগতভাবে আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া জঘন্যতম ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তাছাড়া একজন মানুষকে সামান্য চুরির অপরাধে এমন ভাবে রক্তাক্ত করে অমানসিক নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে ফেলাসহ হত্যার চেষ্টা করা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তাই স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করেন উক্ত বিষয়ে দেশের আইন প্রায়োগকারী সংস্থা সহ পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি না-দিলে ভবিষ্যতে দেশের বিচার ব্যবস্থার অবনতি সহ হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন তারা।
এমতাবস্থায় এমন জঘন্য ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আয়তায় আনতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
