ঝিনাইদহ কালুহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ককে পরিচ্ছন্নতা কর্মী করার চেষ্টা, একই পদে নিয়োগের অভিযোগ
সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত একজন অফিস সহায়ককে তার বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা এবং একই অফিস সহায়ক পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মশিয়ার রহমান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মশিয়ার রহমান ২০০১ সালে বিদ্যালয়ে দপ্তরী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তিনি অফিস সহায়ক পদে এমপিওভুক্ত হন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন তার পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়ে সফটওয়্যারে তাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই অফিস সহায়ক পদে রত্না খাতুন নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েক লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধান শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
জানা গেছে, অভিযোগের কপির ভিত্তিতে জেলা শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে অফিস সহায়ক পদে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির নিষ্পত্তি নির্ভর করছে।
