পত্নীতলায় অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে


সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে, সাপাহার উপজেলার পার্শ্ববর্তী কুচিন্দা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুচিন্দা গ্রামের আলহাজ আব্দুল মান্নান, তাঁর ভাই আব্দুল মতিন এবং তাঁদের মায়ের নামে ক্রয়কৃত প্রায় ১০৭ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুন সড়কের ব্রিজসংলগ্ন বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই জমিতে আমের আড়ত স্থাপনের উদ্দেশ্যে পূর্বেই মাটি ভরাট করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৯ এপ্রিল আব্দুল মান্নান স্ত্রীসহ পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে গত ১৮ মে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সেক্রেটারি মো. আব্দুস সামাদ দলবল নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের এক সদস্যকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জমি রক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে গত ২০ মে আদালত বিবাদীপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১৭ জুন গভীর রাতে জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।


এদিকে, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে ওই ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদ্য হজফেরত আব্দুল মান্নান, তাঁর দুই ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার মামলাটিকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছে।

গত ৬ জুলাই আদালতে শুনানির দিন বিবাদীপক্ষ একটি লিখিত আপত্তি দাখিল করে দাবি করে, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই স্থানে বসবাস করে আসছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, যে ঘরটি সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৪ জুলাই যার ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, সেই ঘরকে আবার ৩০ বছরের পুরোনো বসতঘর হিসেবে দাবি করা পরস্পরবিরোধী এবং বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গত ৮ জুলাই দিনের বেলায় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ইট-সিমেন্ট দিয়ে পাকা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয়।

তাদের দাবি, পবিত্র হজ পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে একটি সম্মানিত শিক্ষক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন