বাংলাদেশ বিমানের ক্রু সদস্যদের সাথে ডিসিএস লিটনের অসদাচরণ ও স্বেচ্ছ্বাচারিতা সীমাহীন অভিযোগ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা, ক্রু সদস্যদের সাথে অমানবিক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিনিয়তই উচ্চ পদস্থদের রোষানলে পড়ে অনেক কেবিন ক্রু সদস্য আজ প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মূলত দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ কর্মকর্তাদের অঙ্গুলি হেলনের মাধ্যমে নিরপরাধ অনেককেই দোষী সাব্যস্ত করে তাদের উপরে দোষ চাপিয়ে দিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে এই ধরনের অমানবিক আচরণের মাধ্যমে নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছেন অনেক কেবিন ক্রু সদস্য। যার ধারাবাহিকতায় ইদানিংকালে এমনটি একটি ঘটনা ঘটেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর চার কেবিন ক্রুর সঙ্গে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বিমানের ওই চার কেবিন ক্রু সদস্য অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ বিমানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আদেশে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও প্রায় ১১ মাস ধরে তাদেরকে শুধু শাটল ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বা আউট স্টেশন ফ্লাইটে তাদেরকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন ঐ কেবিন ক্রু সদস্যরা।
অভিযোগকারী চার কেবিন ক্রুর প্রত্যেকেই জানান, কেন্দ্রিয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে। তারা আরোও বলেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সেন্ট্রাল অ্যাডমিন) থেকেও তাদেরকে আউট স্টেশন ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে কিন্তু বর্তমান ডিসিএস বদরুল হাসান লিটনের কাছে ওই কেবিন ক্রু সদস্যরা একাধিকবার আবেদন করার পরে উক্ত আবেদন দুইবার গ্রহন করলেও সেন্ট্রাল এডমিনের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না-করে উল্টো তাদের সাথে অমানবিক আচরণসহ অপদস্ত করে যাচ্ছেন বদরুল আলম লিটন।
জানা যায় জিএম মহিউদ্দিন আহমেদ ও ফ্লাইট সার্ভিসের ম্যানেজার সিপি শাহনাজ বেগমের তত্বাবধানে থাকা ডিসিএস বদরুল হাসান লিটন ওই আদেশের কোনো রকম তোয়াক্কাই করছেননা। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী ওই কেবিন ক্রুদের আবেনদও খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
কেবিন ক্রুদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সেন্ট্রাল অ্যাডমিনের ছাড়পত্রের পর স্বাভাবিক দায়িত্বে ফেরার কথা থাকলেও বর্তমান পরিচালক (কাস্টমার সার্ভিস) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদেরকে শুধু মাত্র শাটল ফ্লাইটের দায়িত্বই দিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও তা এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। মূলত ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি গোলাম দস্তগীর ও বর্তমান ফ্লাইট সার্ভিসের ম্যানেজার সিপি শাহনাজ বেগম এমন হয়রানী করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারী ক্রু সদস্যরা আরোও জানান, আমাদের আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার পরও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারনে তা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় আবেদন করলেও ফ্লাইট সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাদের অপেক্ষা করার কথা বলে গড়িমসি করে সময় অতিবাহিত করে যাচ্ছেন।
এতে করে তারা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ওই কেবিন ক্রু সদস্যরা। তারা উল্লেখ করেন, ম্যানেজার শাহনাজ বেগমের চাকরির সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে এবং আগামী বছরই অবসরে চলে যাওয়ার কথা থাকলেও ৫৯ বছর বয়সে এসে সার্টিফিকেট এফিডেভিট করে চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছেন তিনি। তাছাড়াও তার নামে ৫ আগষ্টের ছাত্রজনতার বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনের একটি মামলাও রয়েছে তার নামে।
অথচ এরপরও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে কাস্টমার সার্ভিসের ম্যানেজার হিসেবেই এই পর্যন্ত একই পদে বহাল রয়েছেন শাহানাজ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ক্লিয়ারেন্সের পরেও ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব ফিরিয় না-দেওয়ায় চাকরির বিধিমালার সঙ্গে বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
এমতাবস্থায় বিষয়টি দ্রুত সমাধান এবং সার্ভিস রেগুলেশন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
