গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুমারী রেখা রানী গার্লস হাই স্কুল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কুমারী রেখা রানীসহ পুলিশের জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দানশীল ও মহীয়সী নারী কুমারী রেখা রানী ওঝার জীবনের শেষ ইচ্ছা হলো মৃত্যুর আগে তাঁর নিজের সঞ্চয়ের টাকায় গড়ে তোলা স্কুলটির এমপিওভুক্তি বা সরকারি দেখে যাওয়া।একজন রেখা রানী—মৃত্যুর আগে তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত দেখে যেতে চান।
কোটালীপাড়ার বুড়ুয়া গ্রামে কুমারী রেখা রানীর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে আজ তাঁর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতার সুযোগ হলো। তাঁর মুখ থেকেই শুনলাম একটি অসাধারণ স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের গল্প।
একজন রেখা রানী—নার্স হিসেবে কর্মজীবনে উপার্জিত অর্থের সবটুকু দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কুমারী রেখা রানী গার্লস হাইস্কুল’।
নিজের জন্য নয়, নিজের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য নয়—তাঁর উপার্জনের অর্থ ব্যয় হয়েছে একটি এলাকার মেয়েদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়তে। শিক্ষার আলো থেকে যেন কোনো কন্যাশিশু বঞ্চিত না হয়—এই স্বপ্ন থেকেই তাঁর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথচলা।
আজ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুনলাম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গল্প, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার অভিজ্ঞতা, শিক্ষার প্রসার নিয়ে তাঁর ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তাঁর কথায় বারবার উঠে এলো একটি বিষয়—শিক্ষা শুধু একটি মানুষের জীবন বদলায় না, শিক্ষা বদলে দিতে পারে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি প্রজন্মকে।
একজন মানুষের স্বপ্ন, শ্রম, ত্যাগ ও নিষ্ঠা কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্ম দিতে পারে—কুমারী রেখা রানীর জীবন যেন তারই অনন্য উদাহরণ।
একজন নার্স তাঁর জীবনের উপার্জন দিয়ে শুধু একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি; তিনি গড়ে তুলেছেন অসংখ্য মেয়ের স্বপ্ন দেখার একটি ঠিকানা।
তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—মৃত্যুর আগে যেন নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত দেখে যেতে পারেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।
কুমারী রেখা রানীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ আমাদের সমাজে আরও অনেক মানুষকে শিক্ষার জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করুক এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হোক—এটাই প্রত্যাশা।
