নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে কৃষকের গোয়াল থেকে ৯টি গরু চুরি, দ্রুত উদ্ধারের দাবি


নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় একটি গোয়ালঘর থেকে নয়টি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার ২ নং চাকুয়া ইউনিয়নের হারারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুরি হয়ে যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন গরুর মালিক কৃষক মো. রেজাউল করিম।

এ ঘটনায় রোববার খালিয়াজুরী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন 

রেজাউল করিমের অভিযোগ, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রতিদিনের মতো বসতঘরের পূর্ব পাশে থাকা গোয়ালঘরে নয়টি গরুকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১৭ আগস্ট ভোর পাঁচটার দিকে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখা যায়, বেঁধে রাখা কোনো গরুই সেখানে নেই।

পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করেন রেজাউল করিম।

চুরি যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি শাহিওয়াল ষাঁড় বাছুর,একটি লাল ও একটি সাদা রঙের, একটি কাজলা রঙের দেশি ষাঁড়,দুটি সিন্ধি ষাঁড়, একটি লাল ও একটি কালো রঙের, একটি লাল রঙের দেশি গাভী, শিংয়ের একটি অংশ কাটা লাল রঙের একটি দেশি গাভী,কপালে চাঁদের মতো দাগ থাকা লাল রঙের একটি দেশি গাভী এবং একটি লাল রঙের বকনা বাছুর।

রেজাউল করিম বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এই গরুগুলোই ছিল আমাদের পরিবারের শেষ সম্বল। গরুগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় আমরা একেবারে পথে বসার অবস্থায় পড়েছি। দ্রুত তদন্ত করে গরুগুলো উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

২ নং চাকুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফজলু মিয়া বলেন, একজন কৃষকের শেষ সম্বলটুকু চুরি হয়ে গেছে। তাঁর আর তেমন কিছুই নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। দ্রুত তদন্ত করে গরুগুলো উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন