আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে নদী দখল করেছে ৩০২ জন। জেলা প্রশাসন এই তালিকা তৈরি করেছে। নদী দখল কারীদের নিজে নিজে উদ্যোগে দখলকৃত নদী দখল মুক্ত করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় জেল জরিমানার মাধ্যমে এসব নদী দখল মুক্ত করা হবে। নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকে নদী দখল মুক্ত করতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিস কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ মোকসুমুল হাকিম চৌধুরী।এ সময় জাতীয় পানি কমিশনের উপ-পরিচালক উপসচিব আব্দুল আল জাকি, জাতীয় পানি কমিশনের সহকারী পরিচালক গবেষণা ও পরিকল্পনা মোহাম্মদ আশরাফুল হক, পানি প্রকৌশলী সহকারী প্রধান আহমদ শামস কাদির সহ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এক ও দুইয়ের প্রকৌশলী , সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারী।
সভায় সাতক্ষীরার জলবদ্ধতা নিরসন, নদী ও খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভা শেষে অতিথিবৃন্দ প্রাণ শায়ের খাল, বেতনা নদী পরিদর্শন করেন।
জানাযায়, সাতক্ষীরার বেতনা, কপোতাক্ষও মরিচ্চাপ নদী দিয়ে এক সময় লঞ্চ স্টিমার চলতো। দখল দূষণের কারণে পলি জমি এসব নদী মারা খালে পরিণত হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নদী খনন করে। নদীর খনন কাজ শেষ হতে না হতেই আবারো দখল শুরু হয়। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এই অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ৩০২ জন অবৈধ দখলকারীর নাম। ৩০২ জন অবৈধ দখলকারী বেতনা নদী, কপোতাক্ষ ও মরিচ্চাপ নদী দখল করে আছে। এসব অবৈধ দখলদাররা নদী দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আবার নদীতে নেটপাটা দিয়ে নদীতে মাছ চাষ করছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নদী খনন করেছে। দখলের কারণে নদী স্বাভাবিক গতি ফিরে পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবি এসব ভূমিদস্যদের উচ্ছেদ করে নদী মুক্ত করতে হবে নদী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ভূমিদস্যদের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নদী দখল মুক্ত করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কথায় কেউ কান দিচ্ছে না। সে কারণে কোন নদী আজও দখলমুক্ত হয়নি।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আব্দুল বারী বলেন, জেলা প্রশাসনের তালিকায় অবৈধ নদী দখলকারী ৩০২ জন। তারা ৭০ একর জমি দখল করে আছে। জেলা প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নদী দখলমুক্ত হবে। এ বিষয়ে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে সভা হয়েছে। নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন এ বছরই দুটি নদী দখল মুক্ত করতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানান, পূর্বের জেলা প্রশাসক এই তালিকাটি তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি পরিকল্পনা করেছেন। এজন্য তালিকা ধরে বাজেটে চেয়ে পাঠিয়েছেন।বাজেট আসলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবেন। তিনি প্রথমে বেতনা নদী উচ্ছেদ করবেন বলে জানান।
নদী দখলমুক্ত না হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জল জরিমানা করে দখল মুক্ত করা হবে। নদী দখলমুক্ত হলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকবে ।
