সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর সদরের সালাম রোডে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের দুরবস্থা দেখার যেনো কেউ নেই! গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার নবীনগর সদরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ও অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারি হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের পূর্ণবাসন না করে উচ্ছেদ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ও পৌর প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম। এতে দীর্ঘ দিন ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা হয়ে পড়েন অসহায়। অন্য কোনো কাজ করতে না পেরে না খেয়ে মরার অবস্থা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ও তাদের পরিবারের।
এদিকে যানজট নিরসনের জন্য উচ্ছেদ হওয়া ফুটপাত দখল করে অস্থায়ি অটো রিক্সা স্টেশন গড়ে তোলার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। রবিবার, ২ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকালে অসহায় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের জমিদার মনোমোহন রায়ের ভবনস্থ স্থানিয় নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের চেয়ারম্যান ও স্থানিয় বিএনপি নেতা মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদের কাছে অসহায় ব্যবসায়ীদের পূর্ণবাসনের দাবিতে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আর্জি জানান। যাতে তিনি স্থানিয় এমপি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নিকট তাদের দাবি-দাওয়া তোলে ধরেন।
এ সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের পক্ষে মো. তারা মিয়ার সভাপতিত্বে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি মো. ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন হকার মাওলানা সফিকুল ইসলাম, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি মো. আয়ুব মিয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি প্রবীর ভৌমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি লিমনসহ অন্যান্যরা।
হকার মাওলানা সফিকুল ইসলাম বলেন, আমার এহন না খাইয়া মরার অবস্থা। ৩০-৩৫ বছর ধইরা ব্যবসা কইরা আইতাছি। এহন যদি কোনো কাম করতাম না ফারি তাইলে ক্যামনে চলাম কন! আফনেরা আমরারে বাঁচান।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি মো. আয়ুব মিয়া বলেন, আমরা এহন কি করমু! অইন্ন্য কোনো কাম অ জানি না। ছোডু থেইক্কা ফুটপাতে ব্যবসা করমু। চেয়ারম্যান সাবের কাছে আকুল আবেদন আমরারে কন এমপি সাব যাতে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা কইরা দে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি প্রবীর ভৌমিক বলেন, আমরারে যদি অইন্ন কোনো জাইগাত দিতো তাইলেও ভালা আছিন। একবারে উঠায় দিচে। এক সময় সারা বাজার খালি আছিল। অহন সব লিজ দিয়া দোকানফাট কইরা ভইরা লাইচে। আমরা অহন যামু কই।
মো. লিমন বলেন, আমার আব্বা মারা গেছে। পড়া শোনা না কইরা ঘরের মানুষের খাবারের জন্য আব্বার ব্যবসাটা করতাম। অহন উচ্ছেদ কইরা দেওয়ার কারনে আমি কোনো করতাম পারতাছি না। আমরা দিন রোজী কইরা দিন আনতাম, দিন খাইতাম। অহন আমরা কি করমু। এমপি সাব আমাদের বাঁচান। আমরা অহন বেকার অইয়া গেছি গা।
নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি নিজেও দেখছি নবীননগর বাজারে দীর্ঘ দিন ধরে উনারা ব্যবসায়ি করে আসছে। গত কয়েক দিন আগে রাস্তা ও ফুটপাত দখল মুক্ত করতে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে উনাদেরকে উচ্ছেদ করেন। এতে উনাদের এখন না খেয়ে মরার অবস্থা হয়েছে। যা আমাদের কাছে খুবই দুঃখজনক। উনারা আমার কাছে এসেছেন আমি যাতে নবীনগরের শান্তির দূত, সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিক মাননীয় এমপি এডভোকেট আব্দুল মান্নান সাহেবের কাছে অনুরোধ করি উনাদেরকে অন্যত্র ব্যবসা করার বা পূর্ণবাসন করার সুযোগ তৈরি করার জন্য। নয়তো উনারা না খেয়ে মরে যাবেন। আমি নিজেও দেখতেছি, বাজারে কোনো জায়গা ফাঁকা পেলেই এখন কে বা কারা লিজ নিয়ে এসে দোকানপাট নির্মান করে বসে থাকে। নবীনগর বাজারের হকার-ক্ষুদ্র ব্যবাসায়িদের বারবার উচ্ছেদ করে সেখানে মার্কেট হয় অথচ সাধারণ হকারদের কথা কারো মনে থাকে না। আমি ইনশাল্লাহ চেষ্টা করবো, আমার কাছে যে সব হকার-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি ভাইয়েরা উনাদের দু:খ-কষ্ট উল্লেখ করেছেন, উনাদের পূর্ণবাসনের জন্য আর্জি করেছেন আমি তা মাননীয় এমপি মহোদয়কে বলে তাদের জন্য একটি সুব্যবস্থা করার জন্য। আমি আশা করছি, গরীবের বন্ধু আমাদের এমপি ব্যবসায়িদের কথা চিন্তা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
