আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ফারহানা সাদিকা শিফা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারহানা সাদিকা শিফা ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের ইসতামুল হকের মেয়ে। সে ফুলবাড়ী পৌর শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা রিক্তা পারভিন একই বিদ্যালয়ে আয়া হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল ফারহানা। বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় দিনাজপুর থেকে বিরামপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ফারহানাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দুর্ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর আশ্বাসে সকাল ১০টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষুব্ধরা।
ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস আলম বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি (শাহী ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৩১৫) আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মাত্র নয় বছরের একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মায়ের হাত ধরে যে পথ ধরে প্রতিদিন স্কুলে যেত ফারহানা, সেই পথেই থেমে গেল তার ছোট্ট জীবনের যাত্রা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন—সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর কত প্রাণ ঝরলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
