রায়পুরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ, পরিবার-প্রশাসনের উদ্বেগের পর মিলল সন্ধান



জাকির হোসাইন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)  :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্কুল ও মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলেছে। পরে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তারা ঘুরতে গিয়েছিল। এ ঘটনায় কয়েক দিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিল তাদের পরিবার।

সন্ধান পাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলো—কেরোয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী হাজী বাড়ির ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের ছেলে আরাফাত সায়েম (১৪) এবং চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকার প্রবাসী এমরান হোসেনের ছেলে মো. ইকরামুল হাসান মিনহাজ (১৪)। সায়েম রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের এবং মিনহাজ রায়পুর আলিয়া কামিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে দুজনই নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়ি ফেরেনি। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে সোমবার রাতে রায়পুর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও পরিচয় দিয়ে সন্ধান চেয়ে পোস্ট করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাদের সন্ধানে পুলিশও তৎপর হয়। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও তারা সেখানে যায়নি। মূলত পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তারা ঘুরতে গিয়েছিল।

সায়েমের বাবা জাকির হোসেন ও মিনহাজের বাবা এমরান হোসেন বলেন, "সন্তানেরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে না আসায় আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি থানায় জিডি করি। পরে পুলিশ তাদের সন্ধানে উদ্ধার করে দেয়।"

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, "দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের বিষয়ে থানায় পৃথক জিডি করা হয়েছিল। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং পরে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।"

ওসি সাহেব আরও বলেন, "পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পর তাদের নিখোঁজ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এতে তাদের সন্ধানে পুলিশ ও প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন