দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর সিলনা - বেদগ্রাম ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। সড়কজুড়ে ইটের খোয়া ও ধুলাবালিতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সব ধরনের যানবাহন চলাচলে ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। ফলে সড়কে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
বেদগ্রাম-সিলনা সড়কের গুয়াধানা থেকে বেদগ্রাম রেলগেট পর্যন্ত অংশের সংস্কারকাজ কয়েক মাস আগে শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে গুয়াধানা থেকে জ্ঞান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত কাজ করার পর তা বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হয়। এ সময় পুরো সড়কের পিচ তুলে ইটের খোয়া বিছানো হলেও পরবর্তী সময়ে আবারও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসমাপ্ত সড়কটি এখন স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়ার ওপর প্রচুর ধুলাবালি জমে আছে। কোনো যানবাহন চলাচল করলেই ধুলার ঘন কুণ্ডলী তৈরি হয়। এতে পেছনের যানবাহন ও পথচারীদের সামনে দেখতে সমস্যা হয়। ধুলা কিছুটা কমে আসার আগেই অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করায় আবারও ধুলায় ঢেকে যায় সড়কটি। ফলে অনেক সময় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।
ধুলার দূষণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রাস্তায় চলাচলকারী হাজারো মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কর্মস্থল, স্কুল - কলেজ, হাসপাতাল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের তাগিদে রঘুনাথপুর এলাকার প্রচুর লোকজন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এই সড়কে গোপালগঞ্জে যাতায়ত করে।
সড়কটির পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। সড়কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সঙ্গে উড়ে আসা অতিরিক্ত ধুলাবালিতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা। ধুলার কারণে তাদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। আবার রাস্তার কেবলই কাছে থাকা দোকানপাট, বসত বাড়ির লোকজনদের টিকে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষক সৌরভ মজুমদার বলেন, “সড়ক দিয়ে কোনো গাড়ি গেলেই চারদিকে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। সামনে কী আছে, তা ঠিকমতো দেখা যায় না। শিশু ও সাধারণ মানুষ ধুলাবালির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা চাই, দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করা হোক।”
পথচারী দেবব্রত মন্ডল বলেন, “এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তা একদিকে ভাঙাচোরা, অন্যদিকে প্রচুর ধুলাবালি। ধুলার কারণে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতেও সমস্যা হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।”
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এ অবস্থায় সড়কটির অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
কাজে নিযুক্ত থাকা বিশিষ্ট সমাজসেবক আহাদ আলী খান বলেন, বর্ষাকালে পিস- বিটুমিনের কাজ ভালো হবে না বিধায় এলজিইডির নির্দেশে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। এখন বৃষ্টি বর্ষা নাই। তাই অতিসত্বর আবার রাস্তার কাজ শুরু হবে।
গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, মূলত রাস্তার কাজের মান ভালোর জন্য ও পাকাপোক্ত করতে সময় নিতে হয়েছে। বর্তমানে জনদুর্ভোগ কমাতে খুব শীঘ্রই রাস্তার কাজ চলবে।
