মালিকুজ্জামান কাকা : জমির মালিক ইসাহক আলী। কিন্ত স্থানীয় সন্ত্রাসী দুর্বত্ত চক্রের ভয়ে ঐ জমিতে যেতে পারেন না ভুক্তভুগি এই জমি মালিক। তিনি মৃত রওশন আলীর ছেলে।
৯৩ নং ইদ্রাকপুর মৌজায় তিন একর বা নয় বিঘা জমি হাতছাড়া হয়ে আছে। আর ঐ জমি জবর দখল করে রেখেছে একই এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের চার ছেলে দাউদ হোসেন, রবিউল, বাবুল, মিজানুর ও মৃত সোলায়মানের ছেলে শাহীন। এরা আগে আওয়ামীলীগ নেতা হিসাবে ২০১৮ সালে পাকা ধান কেঁটে জমির দখল নেয়। এখন নিজেদের বিএনপি দাবি করে ঐ নালিসী জমি জবর দখলে রেখেছে।
২০৫৪ খতিয়ানে ৮নম্বর দাগে এক একর ২৬ শতক ও ২০৫৫ খতিয়ানে ১০০৯ নম্বর দাগে এক একর ৭৭ শতক জমি ঐ অভিযুক্তরা নিজেদের কব্জায় রেখেছে। জজকোর্ট, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় জমি মালিক ইসাহকআলীর মালিকানা প্রমান করেছে। কিন্ত জমি তিনি দখলে নিতে পারেননি। বরং অভিযুক্ত রবিউল এখন নিজেদের বিএনপির নেতা কর্মী দাবি করছে।
গ্রাম বাসী জানায়, অভিযুক্ত রবিউল মাসুদ ও বুদোর সাথে বিএনপি করছে। তবে রবিউল বা তার ভাইদের বিএনপিতে কোন পদ আছে কিনা গ্রামবাসী জানাতে পারেনি। আর ভুক্তভুগি জমি মালিক মালিকানা থাকার পরেও জমি হাতছাড়া হওয়ায় দুই দুই বার স্ট্রোক করে এখন অসুস্থ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এছাড়া নিজের জমিতো পাননি উল্টো জবর দখলকারীদের মিথ্যা মামলায় তিন মাস বাড়ি ছাড়া ছিলেন ইসহাক আলী। অভিযুক্তরা আওয়ামীলীগ সময়ে তখন ইসাহক কে বিএনপির কর্মী সাজিয়ে মামলা রজ্জু করেছিল।
ঘটনাটি আলিপুরের। যা বৃহত্তর যশোরের ঝিনাইদহ মহেশপুরের নাটিমা ইউনিয়নের। এলাকার তাবৎ মানুষ এই ঘটনা জানলেও কেউ প্রতিবাদ করেনি। আর তাই মালিকানা স্বত্ত ১৬ আনা থাকার পরেও জমি মালিক ইসাহক আলী প্রাণ ভয়ে নিজের জমিতে যেতে পারছেন না।
আইন প্রশাসন কোন কিছুই মানেনা ঐ অভিযুক্ত চরম ধারার অপরাধীরা। চরম বাস্তবতা এই যে, সে সময় ঘর পুড়িয়ে দিলেও সংশ্লিষ্ট থানা অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেনি। আর তাই সত্য মাটি চাপা পড়েছে। মামলা হয়নি।
নাটিমা ইউনিয়ন বিএনপির তিন জন নেতা বলেন, আওয়ামীলীগার কারো বিএনপিতে স্থান নেই। যদি কেউ ব্যাক্তি স্বার্থে ঐ অপকর্ম করে তা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। এর সাথে দল বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই।
ভুক্তভুগি জমি মালিক ইসাহক আলী বলেন, সব প্রমান থাকার পরেও তিনি নিজের জমিতে যেতে পারছেন না। এসময় তিনি কেঁদে নিজের অসহায়ত্ত প্রকাশ করেন। তবে এখনো তিনি সু বিচারের আশা ছাড়েননি।
উল্লেখিত বিষয়ে নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে ভূমি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান দুর্ঘটনা জনিত কারণে তিনি ছুটিতে। সরকারি কাজে দায়িত্ব প্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বাহিরে। অপর কর্মকর্তা আশরাফুল বলেন, কাগজ পত্র থাকলে জমি মালিক জমি পাবেন। বর্তমান সরকারি আইনে নকল ভেজাল কাগজে জমি জবর দখলে রাখার কোন উপায় নেই।
