শেরপুর তিন আসনে এখনও ভোটের উত্তাপ ছড়ায়নি প্রার্থীদের মধ্যে


প্রতিদ্বন্দীতা নয় প্রতিযোগিতা হবে

গোলাম রব্বানী-টিটু: শেরপুর প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনও ভোটারদের মধ্যে ভোটের উত্তাপ ছড়ায়নি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদন্ধীতা নয় প্রতিযোগিতা হবে । জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর তিন আসনে এিনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী শেরপুর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাদল, সতন্ত্র প্রার্থী ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও চরমোনাইয়ের মুফতি আবু তালেব মুহাম্মদ ছাইফুদ্দিন সহ ৪ প্রাথীর মনোনয়ন পত্র জেলা রিটানিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান বৈধ ঘোষণা করেছেন । আবু তালেব কেন্দ্রের সিদ্বান্ত আসলে ৮ দল ঐক্যের ঐক্য পার্থী জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানা গেছে ।  বিএনপি ও জামায়াত দুইজন প্রার্থীকে নিয়ে দলীয় ভাবে আলোচনা, ভোটের হিসাব ,নিকাশ উঠান বৈঠক গণসংযোগ জোরেসোরে বইতে শুরু করেছে । সাধারণ ভোটারগণ নির্বাচনের দৃশ্য চোখে দেখছে ঠিকই কিন্তু ভোটের উত্তাপ এখনও ছড়ায়নি তাদের মধ্যে । কেউ মুখ খুলছে না ভোট প্রদান প্রসঙ্গে তারা বলেছে ফেব্রয়ারী ১২ তারিখ এখনও দেরি আছে কয়েকদিন আগে ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে কোন প্রার্থীর গলায় বিজয়ের মালা উঠবে এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে ভোটারদের মধ্যে ।

বিএনপির প্রার্থী : মাহমুদুল হক রুবেলের পিতা মরহুম ডা: সেরাজুল হক এমপি থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালে সড়ক দূর্ঘটনার মৃত্যু বরণ করার পর বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সতন্ত্র পার্থী হিসাবে  উপনির্বাচনে লড়াই করে বিজয় লাভ করে বিএনপির হাল ধরেন । ১৯৯৬ সালে এক তরফা নির্বাচন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে দুইবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচিত হন । বিগত আওয়ামী সরকারের সময় জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নির্যাতন,জেল জুলুম সহ্য করে রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন । তার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন রুবেল । বিএনপি বড় দল হওয়ার কারণে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি ও সমর্থক থাকার ফলে তার নির্বাচন অনায়াসে প্রচার ও ভোট দৃশ্যমান হবে । এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত থাকলেও আওয়ামী সরকারের সময় তা হাতছাড়া হয়ে যায় । আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধি ও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার ফলে এবার ধানের শীষ বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে । বিএনপির সমর্থকরা বলছেন আওয়ামীলীগ মাঠে নেই ধানের বিজয় হবেই । জামায়াত বিগত সময়ে জনস্বার্থে মাঠে না থাকার কারণে প্রতিযোগিতা হতে পারে ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে না । এবং কি সরকার গঠন করার মতো সারা দেশে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখনও শক্তিশালী হিসাবে দৃশ্যমান হয়নি বলে জানান ।

জামায়াত প্রার্থী : নুরুজ্জামান বাদল সাংগঠনিক ভাবে নির্বাচনের কাজ করে যাচ্ছেন । তিনি শ্রীবর্দী উপজেলায় বসবাস করার সুবাদে নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন । তার ব্যক্তি ইমেজ ও দলের টানে ভোট পাবেন । সাধারণ কিছু ভোটার ২৪ সালের ৫ই আগস্টে আওয়ামী সরকার পতনের পর জামায়াতের গুনগান শুরু করেছেন । ভোটের মাঠে বিএনপিকে অপবাদ ও আওয়ামীলীগের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের মালা গলায় তুলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । বিগত সরকারের সময় জামায়াতকে চুপ থাকতে দেখা গছে তরপরও কর্মীরা মিথ্যা মামলার ঘানি টেনেছেন । সমর্থকরা বলছে বিএনপির কর্মকান্ড মানুষ পছন্দ করে না বিধায় জামায়াত বিজয়ী হবে ।

সতন্ত্র প্রার্থী : আমিনুল ইসলাম বাদশার ব্যক্তি ইমেজ থাকলেও বিএনপি নেতা হিসাবে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় নেতা কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছেন । বিএনপির পদ থেকে বঞ্চিত  কিছু সমর্থক তার সাথে ভোটের মাঠে কাজ করছেন ঠিকই শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাবটা পাল্টে যাওয়ার  সম্ভাবনা রয়েছে । সতন্ত্র পার্থী হিসাবে এ আসন থেকে ভোটের মাঠ থেকে উঠে আসা খুবই কষ্টকর এবং দুইটি উপজেলার মধ্যে শ্রীর্বদী উপজেলায় ২লাখ ৬০ হাজার ভোটার ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ।  প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকার কারণে স্বাধীনতার পর থেকে শ্রীবর্দী উপজেলায় এমপি নির্বাচিত ও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে থাকেন  । দলীয় নির্বাচন হওয়ার কারণে সতন্ত্র পার্থীর চেয়ে ধানের পাল্লা ভারি রয়েছে। সতন্ত্র প্রার্থী ঝিনাইগাতী মাটির সার্থে ভোট পেলেও শ্রীবর্দী উপজেলায় এমপি পাওয়ার সার্থে ভোটের মাঠ একাট্টা হয়ে যাবে ।

সচেতন মহল মনে করছেন আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকার কারণে মূলত বিএনপি জামায়াত প্রতিযোগিতা থাকবে প্রতিদ্বন্ধীতা নয় কারণ অনেক ভোটের ব্যববধানে ধানের শীষ এগিয়ে থাকবে ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন