মুফিজুর রহমান নাহিদ : রাজনৈতিক র'ণ'কৌ'শ'ল হিসেবে সিলেট -৫ আসন কানাইঘাট-জকিগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি মনোনীত হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানের দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকে নিরব ভোট বিপ্লবের সম্ভাবনা বেশি।
জামায়াতে ইসলামী মনে করে এই আসনে তাঁদের একটি শ'ক্ত অবস্থান রয়েছে।একাধিক বিশ্লেষণে ও এমন তথ্য উঠে আসছে।জামাতের পক্ষে এই আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ১৯৮৬,১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।
৯৬ সালের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিপুল ভোট পান,মাত্র কয়েকশত ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। ৯৬ সালেও বিজয়ের জন্য প্রায় এগিয়ে ছিলেন,পরবর্তীতে জকিগঞ্জে একটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হলে উক্ত কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজয় মেনে নিতে হয় এবং হাফিজ আহমদ মজুমদার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এই হিসেবে এই আসনে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা ও সংসদে যাওয়ার জামাতের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।এছাড়া অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এবারে জামাত অনেক সুসংগঠিত ও বিশাল পরিশ্রমী কর্মী বাহিনী রয়েছে।যারা সর্বদা নিরবে নিভৃতে মাঠে কাজ করছে।
জামাত এই আসনে হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খাঁনকে সকল দলের আগে একক প্রার্থী ঘোষণা করে,উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন।এতে করে বেশি ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়ছে দলটির।নেই দলীয় কো'ন্দ'ল ও অন্যান্য পিছুটান কর্মীরাও প্রয়োজনে নির্বাচনের মাঠের খরচ নিজেরা যোগাতে প্রস্তুুত থাকেন।এসব কারণে জামাতে ইসলামি অনেকটা কৌশলে এগুচ্ছে।
ভোটের মাঠে জামাতের এই আসনে বরাবরই একটি চমক রয়েছে,শুধু পরিশ্রম ও দলীয় শৃঙ্খলার জন্য জকিগঞ্জের একটি উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাঁদের দলের প্রার্থীকে চশমা প্রতীকে গ'ণ'জো'য়া'র তৈরি করে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন।
এবারে ও জামাতের প্রার্থীর পক্ষে নিরবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে।অন্যান্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় যেসব কৌশলে হাঁটছেন,জামাত কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক র'ণ'কৌ'শ'ল হিসেবে নিরব ভোট বিপ্লবের লক্ষ্যে ভোটারদের খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এই হিসেবে জামাতের প্রার্থী এই আসনে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক অনুসন্ধানে উঠে আসছে।
প্রার্থী হিসেবে নবীন হলে ক্বীন ইমেজ রয়েছে আনোয়ার হোসেন খাঁনের প্রচার-প্রচারণায় নেই কোন কাঁ'দা ছো'ড়া'ছু'ড়ি,তিনি দলের দুঃসময়ে জামাতে ইসলামির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।এই হিসেবে নিজ দলেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।সময় যত ঘনিয়ে আসবে প্রচারণায় আসবে ভিন্নতা।
হাজার হাজার কর্মী বাহিনীর লক্ষ ও উদ্দেশ্য শুধু সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া ও ভোটারদের মন জয় করে ভোটে জয়ী হওয়া।হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন খান: একজন যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ এবং সত্যিকারের জনদরদী।
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপার গ্রামে জন্ম নেওয়া আনওয়ার হোসাইন খান ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের, মনোযোগী এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর পিতা হাফেজ মো. আব্দুন নূর খানের পরিবারের পরিবেশই তাঁকে শৈশব থেকে নীতি-নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছে।
সড়কের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে তিনি সাতবাক ইদগাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হিফজ সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় কোরআনের হিফজ শেষ করলেও এখানেই থেমে থাকেননি। শিক্ষা তাঁর কাছে ছিল নিজের মানুষ হয়ে ওঠার মূল ভিত্তি। তাই দাখিল থেকে আলিম, এবং পরে ফাজিল ও কামিল—এই দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় তিনি প্রতিটি ধাপে নিজেদের উন্নত করেছেন। ফুলবাড়ি আজিরিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ও সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসায় তাঁকে চেনা যেত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের এক ছাত্র হিসেবে।
তরুণ বয়সে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা, সমস্যা শোনা এবং সমাধানের পথে এগোনোর অভিজ্ঞতা দিয়েছে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বের পরিধি বাড়তে থাকে—কখনও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে, কখনও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বে।
অধ্যাপনা পেশায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান ছিল। প্রায় ১০ বছর মৌলভীবাজার শাহ মোস্তফা একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। শিক্ষক হিসেবে, প্রশাসক হিসেবে—দুই ভূমিকায়ই তিনি একদিকে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ-সরল একজন অভিভাবক হয়ে থেকেছেন।
শুধু শিক্ষা নয়—স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সমস্যা, এবং সাধারণ মানুষের জীবনের ছোট-বড় প্রয়োজন—সবকিছুর সঙ্গে তিনি নিজেকে জড়িত রাখতে চেষ্টা করেছেন। অনেকের কাছে তিনি তাই শুধু একজন সংগঠক নন; বরং দরদী একজন ভাই, একজন অভিভাবক।
সাংগঠনিক জীবনেও তাঁর ভূমিকা দীর্ঘ। মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব থেকে শুরু করে সিলেট জেলার উত্তর শাখায় সেক্রেটারি এবং পরে প্রায় ১৫ বছর জেলা আমীরের দায়িত্ব—এই ধারাবাহিক পথচলা তাঁকে অভিজ্ঞতা ও পরিণতির এক আলাদা জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা, সমাজসেবা, মানুষকে সাথে নিয়ে চলার মনোভাব—এই তিনটি দিক তাঁকে কানাইঘাট–জকিগঞ্জ অঞ্চলে একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কানাইঘাট–জকিগঞ্জের মানুষ এমন একজন অভিভাবক চায়, যিনি যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ এবং সত্যিকারের জনদরদী।
আর সেই মানুষের চাহিদার সঙ্গে যে নামটি সবচেয়ে বেশি মিল খায়—তিনি হলেন হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন খান।
