তালাক প্রাপ্তা বহুরূপী তাসলিমার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে বসবাসের অভিযোগ



সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামে তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী জোরপূর্বক প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে! উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর গ্রামের মৃত আব্দুল বাছের বেপারীর ছেলে মাহমুল হাসান এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার দরিগাও গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে তাসলিমা বেগমের দীর্ঘ ১৮ বছর বিবাহিত সংসার জীবন অতিবাহিত করার পর পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে গত কয়েক মাস পূর্বে, বাংলাদেশ মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাহাদের তালাক সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু তালাক সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও কয়েক মাস যাবত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী তাসলিমা বেগম স্বামী মাহমুল হাসানের বাড়ি-ঘর ছাড়তে নারাজ।

মাহমুদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, আমি বিয়ে করি ১৮ বছর আগে তাসলিমা বেগমকে সংসার জীবনে স্ত্রীর মুখের অশ্লীল ভাষা ছিলো। চিন্তা করেছি ঠিক হয়ে যাবে। সংসার জীবনে ১৩ বছরের একটি ছেলে এবং ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে আমাদের। মুখের ভাষা খারাপ এর কারণে আশে-পাশের মানুষে তাকে বোজাতো এবং গালমন্দ করতো, আড়াই বছর আগে শ্বশুড় বাড়ি বহু টাকা লোন ছিলো ব্যাংকে, কারেন্ট কিস্তি, বিভিন্ন এনজিও লোন ছিলো, সেই টাকা আমার কাছে থেকে নেয় আমারই শাশুড়ী-স্ত্রী-শেলক- শ্বশুর বেশ কিছু টাকার ডোকোমেন্টও দিয়েছে । শ্বশুড় টাকার বিনিময় আমাকে জমি লিখে দিতে চায় বহু বার। আমি আমার স্ত্রী এর নামে জমি লিখে দিতে বলি ১০.৭০ শতাংশ এবং সে সময় আমি নামজারী ও করে রাখি। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ওই সম্পত্তি থেকে তার মায়ের নামে লিখে দেয় ৬.৭০ শতাংশ, যাহা আমি পরে জানতে পারি পরবর্তী তে ঝগড়া-ঝাটি শুরু হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ফিরোজ ভাই অফিসে দুই বার বিচার হইছে, টাকা দিয়ে দিবে কিন্তু দিতে পারে নাই। আমার বাড়িতে বিচার হয়েছে দুই বার, বিচারিক মতে আমাকে জমি লিখে দেয় দুই বারে ৪ শতাংশ, আমি আমার নামে নামজারী করে রেখে দি এ দিকে উক্ত জমিতে গেলে শাশুড়ী শ্বশুর গালিগালাজ আমাকে অশ্লীল বাসায় গালাগালি করে । আমি দরিগাও গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বলি সবাই তাদের খারাপ বলে। উপায়ান্তর না দেখে আমি শেখের নগর পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দি পুলিশ ঘটনাস্থলে পর্যবেক্ষণ করে সত্যতা পায়, পুলিশ আমার প্রাক্তন স্ত্রী’র তার ভাই শ্বশুর- শাশুড়ী কে থানায় আসতে বলেন, তারিখ মতে তারা আসে সাথে দরিগাও গ্রামের রহিম , সেলিম , মামুন নাম না জানা আরো কয়েক জনকে নিয়ে আসে। এ ছাড়াও রাজানগরে শাজাহান মোল্লা , সহিদুল মেম্বার , সাইফুল মেম্বার , তন্ময় , খালেক কাকা থানার পুলিশ সহ আরো অনেকেই বিচার শালিসী মিমাংসা মাধ্যমে ৪ শতাংশ আমাকে বুঝাইয়া দিবো লিখিত হয় সবার সাক্ষর আছে। ৫ দিন পর সেই জায়গায় আমার শাশুড়ী ঘর তুলে দখল করে নেয়। সালিশের কাগজ ও দলিল নিয়ে সবার কাছে বহু বার গেছি, তাহারা কোন সুরাহা দিতে পারে নাই। তারই কারণে আমি কোর্ট থেকে ডিভোর্স দিছি এবং পুনরায় কাজী অফিস থেকে ডিভোর্স দিছি। কাবিনের টাকা নেওয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠাইছি, বহু চিঠি দিছি একটা চিঠিও রাখে নাই। পরবর্তীতে কোর্টে মামলা করেছি যাহার মামলা নং ৫৮২/২৫।

যাহার কারণে তাসলিমা ও তাহার পরিবার আমাকে তাদের ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনীর দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। যে হুমকির বিষয়ে আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। আমার বাড়িতে গেলে মারধর করে মেডিকেল রিপোর্ট আছে, এ বিষয়ে আবারও জিডি করছি। আমি অন্য খানে বিয়ে করেছি , কিন্তু আমার ডিভোর্স দেয়া স্ত্রী আমার বাড়িতে জোড় করে থাকছে। মধুপুরে পীর সাহেব এর কাছে গেয়েছি ফতোয়া বিভাগে থেকে কাগজ দিয়েছে কোনো ভাবে থাকতে পারবে না ,আমি আমার প্রাণের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারি না।

বাংলাদেশ মুসলিম পারিবারিক আইন বিশ্লেষক ও মুহতারাম মুফতী সাহেব দা.বা. জামিআ ইসলামিয়া হালীমিয়া মধুপুরের পীর সাহেবের ফতোয়া বিভাগ এ বিষয় “তালাক সংক্রান্ত মাসআলা” জানান,,

আপনি তাকে তিন তালাক প্রদান করায় তার সাথে আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। এরপর সে যদি গর্ভবতী হয়, তাহলে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত আর যদি ঋতুবতী হয়, তাহলে তিন ঋতু পার হওয়া পর্যন্ত, আর যদি গর্ভবতী না হয়, আর ঋতুবতী ও না হয়, তাহলে তিন মাস ইদ্দত পালন করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায়। যে ঘরে তালাকপ্রাপ্তা হয়েছে সে ঘরে থেকেই যেহেতু ইদ্দত পালন করতে হয়, সেহেতু ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত সে আপনার ঘরে থাকতে পারবে। আর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে আপনার ঘরে থাকার কোন অধিকার পাবেনা। তাই আপনি তাকে জায়গা দিতে কোনভাবেই বাধ্য নন। বরং আপনার জন্য তাকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করার পূর্ণ অধিকার আছে।

এ বিষয়ে তাসলিমা বেগম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে অন্য মেয়েকে বিবাহ করেছে তাকে নিয়ে ঢাকায় থাকে, সে তার মতন থাক আমি এই বাড়িতে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে পড়ে আছি, আমার মতন আমাকে থাকতে দেন। আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবো না।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ দম্পতি বিষয়টি অনেক পুরনো আমরা অনেকভাবে তাদেরকে বুঝাইছি, তাদের সংসার ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি কিন্তু এই নারী অবুঝ, নির্লজ্জ ও বেহায়া কোনমতেই আমাদের বুঝ মানে নাই। স্ত্রীর ঘাড় ত্যাড়ামির কারণে বর্তমানে তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। এখন আমাদের কিছুই করার নাই, সে তার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তালাক কার্যকর হওয়ার পরে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী কোন স্ত্রী তার প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারেনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন