সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি শিল্পপতি ও দানো বীর আব্দুল কাদির মোল্লার


এসএম মিরাজ হোসাইন টিপুঃ নারায়ণগঞ্জ বাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সকল প্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী, দান বীর ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব, আব্দুল কাদির মোল্লা। 

১২ জানুয়ারী সোমবার নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের পিঠা উৎসব ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান দেশ ও সমাজের প্রতিটা  কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থী, স্মার্টফোন/এন্ড্রোয়েট মোবাইল নামের যন্ত্রে আসক্ত, এটির যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমন খারাপ দিকও রয়েছে তবে খারাপের পরিমানটাই বেশি। তাই  অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স পাশ করার পূর্বে এই যন্ত্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। 

এসময় তিনি তার প্রথম জীবনের শূন্যস্থান থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তার জীবনের দুঃখ, কষ্ট ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। 

তিনি একেবারে শূন্য থেকে ওঠে আসা যখন তিনি টাকার অভাবে এসএসসির ফরম পর্যন্ত পূরণ করতে পারেননি অথচ আজকে তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, দান বীর, সমাজ সেবক এবং সফল শিল্পপতি।

বর্তমানে তার নিজনামে ও সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দেশের অন্যতম ও সুনামধন্য দুইটি কলেজ ও দুইটি স্কুল রয়েছে যা আবদুল কাদির মোল্লা কলেজ ও আব্দুল কাদির মোল্লা স্কুল নামে সুপরিচিত। 

এছাড়াও দেশের অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এতিম খানা ও অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘর/বাড়ি নির্মাণ সহ তার সিংহভাগ অনুদানের ছোঁয়া রয়েছে। 

যার মধ্যে অধিকাংশই রয়েছে গোপনীয়, কারণ তিনি ঐসকল অনুদান কখনোই নাম করা বা পরিচিতি পাওয়ার জন্য করেননি। 

তিনি যাকিছু করেছেন তার সবটাই করেছেন মানুষের কল্যাণে।

তিনি আরোও বলেন, ছোটো বেলায় তিনি তার মা বাবাকে হারিয়েছেন,হারিয়েছেন তার দুই সহোদর ভাই ও একমাত্র ছোট বোনকেও তার পরিবারের সৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, তাই মানব সেবার মাধ্যমেই তার মৃত পরিবারের অস্তিত্ব খুঁজে পান।

এসময় তিনি তার কলেজ জীবনের সৃতিচারণ করে বলেন একসময় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার মদন গঞ্জের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কলেজে লেখাপড়া করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় লজিং জীবন পার করেছেন তাই নারায়ণগঞ্জ বাসীর কাছে তিনি ঋণী।

বক্তব্যের শেষে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের যাতায়াতের সুব্যবস্থায় পাঁচটি কলেজ বাস এবং ১০০ টি কম্পিউটার সহ একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। 

পরিশেষে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উক্ত পিঠা উৎসব ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সাবেরা তাহমিনা,নারায়ণগঞ্জ সরকারি তুলারাম কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর মোঃ শহীদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন