গোলাম রব্বানী-টিটু: শেরপুর প্রতিনিধিঃ শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় সরিষার আবাদে হলুদবর্ণে সেজেছে বিস্তির্ণ মাঠ । উপজেলার যে সমস্ত কৃষকরা সরিষার আবাদ করেছে তারা আশংকা করছে ফসলে লাভবান হওয়া যাবে । উপজেলার ১০/১৫বছর আগে ব্যাপক সরিষার ফলনের মাঠ চোখে পড়তো ।
এবার চতল, বনগাঁও, দিঘিরপার, হলদিবাটা, ভারুয়া, ফারাবাদ, কুচনীপারা, ঘাগড়া, বাঘেরভিটা, গুরুচরন দুধনই ও আহাম্মদ নগর, কালিনগরসহ উপজেলার কৃষকরা কম বেশী সরিষার আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রাসারন অধিদপ্তর ঝিনাইগাতী উপজেলায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সরিষা ফলনে আগ্রহ করে তুলেছেন।
সরিষা আবাদের কৃষক শান্ত জানান, আমি গত বার আবাদ করে কিছু লাভবান হয়েছি । এবার ২০০শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছি ফলন খুবই ভালো দেখা যাচ্ছে। গত বারের চেয়ে এবার বেশী লাভবান হবো বলে আমি আশাবাদী । ধানের আবাদের চেয়ে সরিষার ফলনে অল্প পরিশ্রম,খরচও কম লাগায় কৃষকরা বেশী লাভবান হয় বলে জানায়। এমন কি সরিষার আবাদ কর্তন করে বোরো ফসলের ধান আবাদ করা যায়। সরিষার সবজি খেতেও সুসাধু এর কদরও রয়েছে বাজারে। এক যুগ আগেও ঝিনাইগাতী সদরে,বাঘেরভিটায় ও রামেরকুড়া গ্রামে সরিষা ভেংঙ্গে খাটি সরিষা তৈল বাহির করে বাজার জাত করা হতো । সরিষার সংকট থাকায় সরিষার ভাংঙ্গার মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে,মালিকরা অন্য পেশায় মনোযোগী হয়েছে।
সাবেক মিল মালিকরা জানায়, আগে সরিষার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় বাপজাদা আমল থেকেই এ ব্যবসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম এখন সরিষা অগের মতো আমদানী না থাকায়,এবং দাম বৃদ্বির ফলে ব্যবসা গুটিয়ে অন্য কাজকর্ম, ও কৃষি কাজ করে দিনাপাত করছি। সরিষার আবাদে কৃষকরা পুরোপরি ভাবে ঝুঁকে পড়লে এর চাহিদাও মিটবে আমরাও বাপজাদার পেশায় আবার ফিরে যেতে পারি। দীর্ঘদিন পর হলেও এবার উপজেলার সর্বত্র কম বেশী সরিষার আবাদ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কৃষকের মাঝে আরও উৎসাহ উদ্দিপনা দিয়ে সরিষা আবাদের প্রতি আগ্রহ করে তুলতে হবে কৃষি সমপ্রাসারন অধিদপ্তরের এই প্রত্যাশা কৃষক সমাজের।
