মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল ¯’লবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিন দিনে চার হাজার ৫০৬ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছে। এ সময় ভারতের সঙ্গে ৯৬১ ট্রাক পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে। ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বাণিজ্য খাতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বেনাপোল-পেট্রাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়। সোম, মঙ্গল, বুধ (১২-১৩-১৪ জানুয়ারি) তিন দিনে আমদানি হয়েছে ৭৯০ ট্রাক পণ্য। রপ্তানি হয়েছে ১৭১ ট্রাক পণ্য। এর মধ্যে সোমবার আমদানি হয়েছে ৩০৫ ট্রাক, রপ্তানি হয়েছে ৪৩ ট্রাক পণ্য। মঙ্গলবার আমদানি হয়েছে ২২২ ট্রাক, রপ্তানি হয়েছে ৭৮ ট্রাক পণ্য ও বুধবার আমদানি হয়েছে ২৬৩ ট্রাক, রপ্তানি হয়েছে ৫০ ট্রাক পণ্য।
আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, তুলা, শিশু খাদ্য, মেশিনারিজ পণ্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকার ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ নানা ধরনের পণ্য। আর রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, মাছ ও ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল ¯’লপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্যের আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাতায়াত শুরু হয়। তিন দিনে (১২-১৩-১৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে চার হাজার ৫০৬ জন পাসপোর্টযাত্রী। এর মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে দুই হাজার ৬২৪ জন। ভারতে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন এক হাজার ৯২০ জন, ভারতীয় ৬৮৮ জন এবং অন্যান্য দেশের ১৬ জন।
অপরদিকে, ভারত থেকে ফিরেছেন এক হাজার ৮৮২ জন। ভারত ফেরত যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন এক হাজার ৪৯১ জন, ভারতীয় ৩৭৫ জন এবং অন্যান্য দেশের ১৬ জন। গত ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতার কারণে পাসপোর্টধারী যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ফলে আমদানি-রপ্তানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈঠক বন্ধ রয়েছে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, এতে গত বছরে আগের বছরের তুলনায় দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। ফলে চলতি অর্থবছরের গত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। বাণিজ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মোটরস নামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে শুধু ট্রাক্টর আমদানি করছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলপথে অন্যান্য পণ্যের আমদানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেনাপোল-খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

