নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ শহরের কোলাহলকে পাশ কাটিয়ে রবি শস্য চাষে দৃষ্টান্ত গড়েছেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার এক কৃষক। গম, সরিষা ও আলু চাষ করে ভালো ফলনের আশায় দিন কাটছে তাঁর। এই উদ্যোগ অনুপ্রাণিত করছে আশপাশের অনেক কৃষককেও।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাহিরচাপড়া এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম প্রতি বছরের মতো এবারও রবি মৌসুমে সরিষা, গম ও আলু চাষ করেছেন। শহরের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান হলেও পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা, গম ও আলুতে ফলন বেশি এবং লাভও তুলনামূলক ভালো। তাই দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই তিনটি ফসল চাষে বেশি আগ্রহী। এই চাষাবাদ থেকেই সারা বছর তাঁর চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চলে। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচও আসে এই জমি থেকেই।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের কাছাকাছি থেকেও কৃষিকাজে এমন সাফল্য অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘রফিকুল ভাইয়ের চাষ দেখে আমরাও এখন রবি শস্য চাষের দিকে ঝুঁকছি।’
রফিকুল ইসলামের চাষাবাদে পড়াশোনার পাশাপাশি সহযোগিতা করছেন তাঁর স্নাতক পড়ুয়া ছেলে রিয়াদ। তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে কাজ করে কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে এই কাজটা করতে চাই।
বর্তমানে রফিকুল ইসলাম ৫৫ শতাংশ জমিতে সরিষা, ৮০ শতাংশ জমিতে গম এবং ৩০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করছেন। সামনে আরও জমি চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারি সহায়তা যদি একটু বাড়ে, তাহলে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করা সম্ভব।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেত্রকোণার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগী কৃষকরাই রবি শস্য চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।’
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে রবি শস্য উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে কমবে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা।

