চাঁদপুরে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত



চাঁদপুর প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে ৪ জন, চাঁদপুর-২ মতলব উত্তর-দক্ষিণ আসনে ৬ জন, চাঁদপুর-৩ সদর-হাইমচর আসনে ৫ জন, চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে ৫ জন ও চাঁদপুর -৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনে ৫ জনসহ মোট ২৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৪৪(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের কারণে অধিকাংশ প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি। জেলায় ৫০ হাজারের উপরে ভোট পেয়েছেন ১১ প্রার্থী। বাকী ২৫ জন ১৫ হাজারের নিচে পেয়েছেন ভোট।

চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন (১,৩৩,০৩২)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ (৭০,৩৬৮)। এখানে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন, গণফোরামের আজাদ হোসেন (৩২৯), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (৪৩৭১), গণঅধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন (২১৭) ও জাতীয় পার্টির হাবিব খান (৬৫২)।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর- দক্ষিণ) আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন (১,৭২,৫০৬)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের এলডিপির প্রার্থী বিল্লাল হোসেন (৫৭,৪৭৩)। এখানে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার (২৮৩), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর (১২,৩০৭), নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক (১৪৩), জাতীয় পার্টির মো. এমরান হোসেন (১,৩২৮), গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাপ হোসেন (৩১৫) ও বাংলাদেশ রিপালিকান পার্টির ফয়জুন্নুর (৫০৯)।

চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ (১,৬৫,৪০৪)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া (১,০০,৮৬৫)। এখানে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফন্টের এ.এইচ.এম. আহসান উল্লাহ (২,২৭৮), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জয়নাল আবেদীন শেখ (১৪,১৮১), গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন (১৪৩), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৬৭৬) ও গণফোরামের সেলিম আকবর (৩০৭)।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল হান্নান (৭৬,১৭৫)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ (৬৯,১৫৫) ও জামায়াতের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (৬৬,৬৯২)। এখানে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন (১৮৪), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মকবুল হোসাইন (৫,২৬১), জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম (২৭৭), বাংলাদেশ ইসলামী ফন্টের মো. আবদুল মালেক (৫০৯) ও গণফোরামের মুনীর চৌধুরী (২৪০)।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মো. মমিনুল হক (১,৮৫,৪০৪) । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির (৭৫, ৬৬০)। এখানে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির মির্জা গিয়াস উদ্দিন (১৫১৬), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী (৬,৬৮১), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন (২৬৮), ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন (২৫৬) ও ইসলামী ফন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (১৩,১৭০)।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, যারা নির্ধারিত ভোটের কম পেয়েছেন, তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। প্রত্যেক প্রার্থী মনোনয়ন দাখিলের সময় ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দেয়। জেলায় ২৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন