নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে, নির্বাচন না প্রহসন?
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অথচ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে সিল মারানো, ফলাফল শিটে ওভাররাইট, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া-এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা কেবল আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়; বরং ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু কেন্দ্রে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী নেতাকর্মী প্রকাশ্যে অনিয়ম করেছেন এবং সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেছেন।
আরও উদ্বেগজনক হলো, একটি কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের এক ভোটারকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা।
যদি কেন্দ্রের সামনেই এমন সহিংসতা ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকে, তবে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কেবল ভোটের দিন ব্যালট গ্রহণ নয়; বরং একটি সমতাভিত্তিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। অন্যথায় জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে।
গণতন্ত্র টিকে থাকে আস্থার ওপর। সেই আস্থা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে নির্বাচন আর উৎসব থাকে না—পরিণত হয় প্রহসনে।##
