কুমিল্লা ও মুরাদনগরসহ সারাদেশব্যাপী সর্ব মহলেই গ্রহণযোগ্য কায়কোবাদ


মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) : বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। মুসলমানদের ত্বরীকা, মাযহাব নানা ইস্যুতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আলেম-ওলামাদের মধ্যে নানাবিধ মতভেদ রয়েছে বৈকি। এছাড়া দেশের অসংখ্য দরবার-খানকা, পীর-মাশায়েখ, অলি-কওমী, মসজিদ-মাদরাসা, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধর্মমন্ত্রীর সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক থাকে সার্বক্ষণিক। তাই সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এমন একজনকেই এই মন্ত্রণালয়ে চান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে- গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয় লাভ করেছেন তার মধ্যে কেবল দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ রয়েছেন, যিনি সকল মতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের কাছে প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য।  তিনি নিজেই সুফীবাদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, এছাড়া আলিয়া ও কওমীসহ সকল ধারার মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। তাই নতুন মন্ত্রী পরিষদে সাবেক ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মতো ত্যাগী, নির্যাতিত,  অভিজ্ঞ ও ধার্মীক মানুষকেই ধর্ম মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তারা।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে দলীয়করণ করে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে সেখান থেকে মুক্ত করতেও বলিষ্ঠ জামায়াতবিরোধী ব্যক্তিকেই প্রত্যাশা দলমত নির্বিশেষে সকলের।

জানা যায়, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যার সর্বশেষটি গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা-৩ আসন (মুরাদনগর) থেকে বিপুল ভোটে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েয়েন। কায়কোবাদ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বার এবং ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  সেসময় তিনি ধর্মমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে, তিনি বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন।  ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আবারও সংসদ সদস্য পদে জয়লাভ করে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন এবং জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালে ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান।

তিনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে ছিলেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন দেশে না থাকলেও তিনি তার নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিদেশে থেকেও সব সময়। সকল আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন দূর থেকেই। একারণে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগরের মানুষের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়। তবে দেশে ফিরে আসার পর সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মুরাদনগর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলাসহ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নানামুখী ষড়যন্ত্র করলেও তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের পাশে। এমনকি নির্বাচনের আগে জামায়াতের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রের পরও সাধারণ মানুষকে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।  এই বর্ষিয়ান বিএনপির বাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপি কর্তৃক মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ কুমিল্লা ও মুরাদনগরসহ সারাদেশব্যাপী বহুল আলোচিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন