কুমিল্লা জুডিশিয়াল সাবেক পেসকার কবিরের বিরুদ্ধে নারী সংবাদকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং হত্যার চেষ্টার অভিযোগ


  • রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ার কলঙ্কিত দৃষ্টান্ত
  • কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতে এলাকার পতিপক্ষের সাথে মিলে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় কারাবাস 

 শাহাজাদা ইমরান, কুমিল্লা : বাংলাদেশের সংবিধানে ঘোষিত আইনের শাসন, মানবাধিকারের সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের মর্যাদাকে ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন করে কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক ধারাবাহিক, সংগঠিত ও পরিকল্পিত ঘটনার মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থা আজ ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ে উপনীত হয়েছে। এই ঘটনায় একজন পেশাদার নারী সাংবাদিককে কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অপরাধে প্রতিশোধমূলকভাবে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে—যা শুধু নারী নির্যাতনই নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শন।

ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক মোসাঃ সালমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকায় সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের অংশ হিসেবে সালমা কুমিল্লা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাখা থেকে পলাতক আসামিদের বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করতেন। এই পেশাগত কাজের সূত্রেই আদালতের কোর্ট স্টাফ, আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদের সঙ্গে সালমার পরিচয় গড়ে ওঠে। এই পরিচয়কে ব্যবহার করে কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতের মুন্সি শাখার পেশকার মোঃ গোলাম কবির উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্থাপনের চেষ্টা শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে পেশকার মোঃ গোলাম কবির জি.আর. মামলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলে সালমা আক্তারকে কবিরের কাছে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সালমা আক্তার পেশকার মোঃ গোলাম কবির তার চরিতার্থ কাম সার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে সালমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সালমার স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করে,যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৫৪ ও ৩৫৪(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সামাজিক সম্মান, নারীর মর্যাদা সম্মান পেশাগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সালমা আক্তার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে অভিযুক্ত মোঃ গোলাম কবিরের মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্লক করে দেন।

কিন্তু অভিযুক্ত পেশকার এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি অন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে সালমা আক্তারকে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল মেসেজ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠাতে থাকেন এবং পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক করার কুপ্রস্তাব দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান—কুমিল্লা আদালতে কাজ করতে হলে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার পেশকার কবির কে সময় দিতে হবে এবং তিন দিনের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণে পেশকার গোলাম কবিরের সঙ্গে যেতে হবে। সালমা আক্তার পেকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আদালত সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ধরনের আচরণ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ও ১১ ধারার আওতাভুক্ত গুরুতর অপরাধ।

এরপর অভিযুক্ত পেশকার সালমা আক্তারের ভাড়া বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, ভাড়াটে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করেন, যা দণ্ডবিধির ৫০৬ ও ৩৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারাবাহিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে সালমা আক্তার গত ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়াসির আরাফাত বরাবর অভিযুক্ত পেশকার মোঃ গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রতিশোধ শুরু হয়। ২৬ আগস্ট ২০২৫ সকাল ৯টা ৩০ ঘটিকার সময় সালমা হাজিরা লিখতে গেলে কুমিল্লা আইনজীবী ভবনের ৩ নম্বর হলরুমে সালমার আইনজীবী এইচ. এম. আবাদ সাহেবের নিকট হাজিরা লিখতে গেলে কুমিল্লা আইনজীবী বারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, জুডিশিয়াল পেশকার মোঃ গোলাম কবির এবং সালমার এলাকার প্রতিপক্ষ সাহনাজ আক্তার সুমনা সংঘবদ্ধভাবে সালমার ওপর হামলা চালান। তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি, কাপড় টানাহেঁচড়া এবং তার ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়—যা দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৫৪, ৩৭৯ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ।

এরপর সালমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তালাবদ্ধ করা হয়, যা দণ্ডবিধির ৩৪২ ধারায় বেআইনি আটক। সাংবাদিক সহকর্মীরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদেরও মারধর ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বিভিন্ন থানায় প্রভাব খাটিয়ে সালমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হইয়া এবং শেষ পর্যন্ত কোর্ট ইন্সপেক্টর মোঃ সাদিকুর রহমানের মাধ্যমে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়াসির আরাফাতের আদেশে তিতাস থানার একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাংবাদিক সালমা গ্রেপ্তারকৃত মোকাদ্দামায় জামিন পাওয়ার পরও প্রতিহিংসা থামেনি। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কারাগারে থাকা অবস্থায় একই কৌশলে আরও একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ফলে দুটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সালমা আক্তারকে মোট (তিন মাস সাত দিন কারাভোগ করতে হয়) যা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক মানবাধিকার  ব্যক্তিস্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন। পরবর্তীতে সালমা ৩ মাস ৭ দিন হাজতখেটে জামিন এ বের হবারপর পেসকার কবির সালমাকে তার বাসায় যাওয়ার রাস্তা থেকে সন্তাসী দিয়ে তুলে নিয়েযায় , তারপর দর্শন করে হত্যার পরিকল্পনা করে, সালমার অনুনয় বিনিময়ে কান্নাকাটি করে,কবিরের ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের মধ্যে থাকা দুইজনের সহযোগিতায় সালমা ওখান থেকে প্রানে বেঁচে ফিরে।সালমা আক্তার এর আগেও   একাধিকবার হামলার শিকার হন। ২৪ জুলাই ও ৫ আগস্ট ২০২৪ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করায় সালমা হামলা ও লুটপাটের শিকার হন। গুলি করার ভিডিও করা কে কেন্দ্র করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, নুরপুর হক কমিশনারের মেয়ে শাহনাজ সুমনা ও তার সন্ত্রাসী জ্ঞাং দ্বারা  সালমার বাসা ও দাউদকান্দির বিশ্বরোডে অবস্থিত তিনটি কাপড়ের দোকান লুট হয়। এসব ঘটনায় মামলা নং ৩৭/২৪, ৯৮০/২৪, ২৭০/২৪, সি.আর. ২৮৩/২৪ ও ১৪৭/২৪ দায়ের হয়, যা বর্তমানে কুমিল্লা আদালতে বিচারাধীন। এসব সালমার মামলার আসামিরাই পরবর্তীতে পেশকার মোঃ গোলাম কবিরের সঙ্গে যোগসাজশে সালমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন