মোঃ শফিকুল ইসলাম (মিলটন) : দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর মানিকগঞ্জের কৃতি রাজনীতিক ও জেলা বিএনপির নেত্রী আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানিকগঞ্জ আবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেল।
আফরোজা খানম রিতা প্রয়াত শিল্পপতি ও রাজনীতিক হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর বাবার নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। ওই নির্বাচনে তাঁর বাবা মানিকগঞ্জের দুটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সপ্তম জাতীয় সংসদে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আফরোজা খানম রিতা সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তিনি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজস্ব নেতৃত্বের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে সাফল্যের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছেন। একটি শিল্পগোষ্ঠী পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করেছে-যা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০০৮ সালের পর দীর্ঘ সময় মানিকগঞ্জে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে চাপে থাকলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই দলটির বিজয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। এ সময়ে জেলা পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে আফরোজা খানম রিতার নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর মন্ত্রীত্বকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক নিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
মন্ত্রীত্ব যেমন সম্মানজনক, তেমনি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ খাতে নতুন গতি সঞ্চার করা এখন তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা-তাঁর নেতৃত্বে শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, নিজ জেলাতেও উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
