কে এই বাংলাদেশ বিমানের ক্যাপ্টেন তাপস ?


নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক কথিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আলোচিত এক সেনা কর্মকর্তা যিনি ২০১০-১১ সালে কর্নেল পদবীর কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন অন্যতম দায়িত্বশীল একটি দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ডুয়েল এজেন্ট হিসেবে প্রতিবেশি এক রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীলদের নিয়োগ বা ডেপ্লয়মেন্টের। সেসময় জাতীয় পতাকাবাহি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারি সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের একজন বৈমানিককে প্রায়শই দেখা যেতো সেগুনবাগিচাস্থ ঐ সংস্থার কার্যালয়ে ঘনঘন যাতায়াত করতে। 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সেই ক্যাপ্টেনকে প্রতিবেশি রাষ্ট্রটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনে কর্তব্যরত সহকারী সামরিক উপদেষ্টা, এডিএ স্কোয়াডন লিডার তুষারের সাথেও দহরম মহরমের একাধিক প্রমাণ মেলে।  অভিযোগ রয়েছে সেই এডিএ সে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে দেশটির বিমানবাহিনী থেকে প্রেষণে কাজ করছিলেন বাংলাদেশের ঢাকা ষ্টেশনে।

এদিকে ডিসেম্বর ২০১০ অথবা জানুয়ারি ২০১১ সালে সেই ক্যাপ্টেন যার নাম তাপসকে সেগুনবাগিচাস্থ যে গোয়েন্দা কার্যালয়ে তৎকালীন কর্নেল মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতেন তিনি পরবর্তীতে পদায়িত হয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স, এসএসএফের মহাপরিচালক , ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ক্ষমতার পালা বদলের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তাকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি ও আটক করা হয় ।

তবে অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার পালা বদলের আগে ও পরেও, ক্যাপ্টেন তাপসকে একাধিকবার বিমান অপারেশনস ভবন থেকে ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতীয় হাইকমিশনের গাড়িতে করে নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২৯ জুলাই ২০২৫ এবং ১২ আগস্ট ২০২৫ উল্লেখ করা হয়েছে। যা এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগ বলছে, ক্যাপ্টেন তাপস হলেন ক্যাপ্টেন শাহাবের ছেলে, যিনি একাধিক বারের বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন। যার ভিডিও ও প্রিন্ট প্রমান রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার হাতে। ছেলের মতো বাবাও বেসামরিক বৈমানিক হওয়ার পরও প্রতিবেশি একটি রাষ্ট্রের সাবেক পদস্থ সেনা ও গোয়ান্দা কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন ছিলেন। 

ক্যাপ্টেন শাহাব আওয়ামীপন্থী হওয়ার কারণে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি তার ছেলে তাপসকে বয়সসীমা ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর তদবীর ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অসদব্যবহার করে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখেন এবং বিমানের অপারেশনস কন্ট্রোল কার্যত তার ছেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাপ্টেন তাপস গত প্রায় বারো বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক প্রভাবশালী পদে অধিষ্ঠিত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।  

প্রথমত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগদানের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারিত থাকলেও অভিযোগ রয়েছে যে ক্যাপ্টেন তাপস তার বাবার প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই বিমান সংস্থায় যোগদান করেন, যা প্রচলিত নিয়োগবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দ্বিতীয়ত, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিমানে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দমন ও নিপীড়নের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।

তৃতীয়ত, তিনি বিমান প্রশিক্ষণের অজুহাতে ভারত সফর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সফরকালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র। যার প্রমাণ মিলবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে পাসপোর্ট ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, জাতীয় নির্বাচন ২০২৬-এর কিছুদিন আগে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার সঠিক যাচাই বাছাই ছাড়াই ক্যাপ্টেন তাপসকে দ্রুত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বোয়িং ৭৮৭ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 

বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে অভিযোগ মেলে বিগত ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ক্যাপ্টেন তাপস ও তার অনুসারী চক্রের একাংশের বিরুদ্ধে বিমান ছিনতিই করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পণার বিষয়ে। এমনি পরিস্থিতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে পুরানো যোগসাজশের সূত্র ধরে শারীরিক অসুস্থতার অযুহাতে বিমান থেকে ছুটি নিয়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে তদবীর চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিমান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

এরই ধারাবাহিকতায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের ঠিক আগে ১০ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে পরিচালক প্রশাসন ও মানব সম্পদ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নওসাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে স্মারক নম্বর ৩০.৩৪.০০০০.০০০.০৭৪.০২.০০০১. ২৬.৬৭ ক্যাপ্টেন তাপস আহমেদকে উড্ডয়ন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একটি পত্রে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। যাতে বলা হয়েছে “অনিবার্য কারনবশত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ক্যাপ্টেন তাপস আহমেদ, পি-৩৪১৯৯, ক্যাপ্টেন বি-৭৩৭-কে উড্ডয়ন হতে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. হুমায়রা সুলতানাকে তার মুঠোফোন নম্বর (+880 1777-715501) এ ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে হোয়াটঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পরও এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত উত্তর মেলেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন