নাজমুল হুদা, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে শতাধিক পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশু।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় একটি স্কুলের পাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি করা হয় একটি অস্থায়ী দোকান। দোকানের সামনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল— ‘১ টাকায় ঈদের নতুন জামা’। ব্যানারটি দেখেই আশপাশের পথশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল ও আনন্দ।
দেখা যায়, হাতে এক টাকার কয়েন বা কাগজের নোট নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শিশু-কিশোররা। স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক দেখিয়ে দিচ্ছেন এবং সাইজ মিলিয়ে দিচ্ছেন। এরপর শিশুদের হাত থেকে প্রতীকী মূল্য হিসেবে ১ টাকা নিয়ে তুলে দিচ্ছেন নতুন ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট। নতুন পোশাক হাতে পেয়েই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুরা।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’। সংগঠনটির উদ্যোগে বসানো এই এক টাকার দোকানে শিশুদের জন্য নানা ধরনের নতুন পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়, যাতে তারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী জামা নিতে পারে।
গোলাহাট এলাকার শিশু রেহান (১০) জানায়, অনেক সময় ঈদের সময় তাদের নতুন জামা হয় না। এখানে ১ টাকায় নতুন জামা পেয়ে সে খুব খুশি। একইভাবে আকাশি (৮) জানায়, সে নিজের পছন্দের একটি সুন্দর ফ্রক পেয়েছে, যা সে ঈদের দিন পরবে।
শুধু শিশুদের জন্যই নয়, এই দোকানে অসহায় মানুষের জন্য রাখা হয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসও। দরিদ্র মানুষরাও মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছেন।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, সমাজে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যারা ঈদের আনন্দ থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, এতিম ও দরিদ্র শিশুদের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই আয়োজন। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, পোশাকের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হবে। ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’। মাত্র এক টাকার প্রতীকী মূল্যে নতুন পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে যে হাসি ফুটেছে, সেটিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

