সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহে বাণিজ্যিকভাবে পুঁইশাকের ফল বা ‘মেচড়ী’ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত কয়েক বছরে এই চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এখন এটি সদর উপজেলার অন্যতম লাভজনক কৃষিখাতে পরিণত হয়েছে। কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন বাড়ছে আগ্রহ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখে পড়ে শুধু মেচড়ীর সবুজ সমারোহ। পুঁইশাক গাছের ডাটার সঙ্গে জন্ম নেওয়া ছোট ছোট ফলই ‘মেচড়ী’ নামে পরিচিত। এই ফল বিক্রি করেই বদলে যাচ্ছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে মেচড়ী চাষ করেছেন। প্রথম বছরেই ভালো ফলন পাওয়ায় লাভের মুখ দেখেছেন। এখন জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে মেচড়ী চাষে ফলন আসা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বছরে ৫ থেকে ৬ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। এতে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব। বাজারে মেচড়ীর চাহিদা থাকায় বিক্রি নিয়েও তেমন সমস্যা হয় না। সিজনের শুরুতে প্রতি কেজি মেচড়ী ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মেচড়ী চাষ শুধু কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করছে না, পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান। মাঠে ফল সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণে কাজ করছেন এলাকার বহু কর্মহীন নারী।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৯১ হেক্টর জমিতে পুঁইশাকের ফলের চাষ হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চাষ সম্প্রসারণ ও ভালো ফলন নিশ্চিতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঝিনাইদহে মেচড়ী চাষ এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
