নড়াইলে ব্যতিক্রমী আয়োজনে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় ‘কৃষকের ঈদ’ আনন্দ


নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে ব্যতিক্রমী আয়োজনে হিন্দু-মুসলিমদের ঈদ আনন্দ ও সম্প্রীতির মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গ্রামীণ খেলাধূলা, কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় ‘কৃষকের ঈদ’ আনন্দ, সম্প্রীতি ভাবনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবিসহ ঈদসেলামি উপহার দেয়া হয়েছে হিন্দু-মুসলিম ধর্মালম্বীদের মাঝে।

 ঈদের আগে ঈদ আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা অবধি নড়াইল সদরের আগদিয়ার-চর যুবাসংঘ ক্লাব চত্বরে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মালম্বী নারী এবং পুরুষদের অংশগ্রহণে হাড়িভাঙ্গা, বালিশ বিতরণসহ গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কৃষকের ঈদ’ কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষাণ-কৃষাণীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছাও জানানো হয়।

সিঙ্গাশোলপুর কে পি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভগীরথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-যশোরের অভয়নগরে ভবদহ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার।

মূল্য আলোচক ছিলেন-অগ্নিবীণার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নজরুল গবেষক এইচ এম সিরাজ। স্বাগত বক্তব্য দেন-নেতাজী মঞ্চের সভাপতি বিকাশ বিশ্বাস।

আলোচক ছিলেন-হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য ফ্রন্ট জেলা শাখার সভাপতি কল্যাণ মুখার্জি, মাগুরার বেরইল নাজির আহমেদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ধ্রুব কুমার দাম, কবি বিপুল বিশ্বাস, এস কে সরকার, অগ্নিবীণা ও ঘরামি ঘরের সদস্য তৃপ্তি রাণী বিশ্বাস, পীযুষ বিশ্বাসসসহ অনেকে। আবৃত্তি করেন-কবি এইচ এম সিরাজ ও কবি বিপুল বিশ্বাস।


এলাকাবাসী জানান, সৌদিপ্রবাসী আগদিয়ার-চর গ্রামের বিশ্বাস রবিউল ইসলাম রবির উদ্যোগে গ্রামীণ খেলাধূলার পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মালম্বী ১৭০জনের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি উপহার দেয়া হয়েছে। এদিকে, ২০০ জনের মাঝে এক হাজার টাকা করে ঈদসেলামি দেয়া হয়। এসব ঈদ উপহার পেয়ে খুশি বিভিন্ন পেশার সুবিধাবঞ্চিতরা।

আয়োজকরা বলছেন, সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে এ ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সর্বত্র সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। সবার জন্য ঈদ হোক আনন্দের। সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচে যাক কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কৃষকের ঈদ’ কবিতায় উচ্চারিত পঙক্তিমালার মতো-বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিমে আসমানে / লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গোরস্তানে! / হেরো ঈদ্গাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত-কঙ্কাল / কসাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গোরুর পাল ? / রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রæ-সলিলে হায় / বেলাল! তোমার কন্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়! / থালা ঘটি বাটি বাঁধা দিয়ে হেরো চলিয়াছে ঈদগাহে / তির-খাওয়া বুক, ঋণে-বাঁধা-শির, লুটাতে খোদার রাহে.....।

অথবা কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ...’ বিখ্যাত সেই গানের মর্মবাণীর মতো সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়–ক ঈদ আনন্দ। ঈদ মোবারক। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন