ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ধান চাষে প্রদর্শনী, বাসমতিসহ ১২ জাতের সম্ভাবনা


আমিনুল ইসলাম, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

দেশে বাসমতিসহ উন্নত জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২টি উন্নত জাতের ধানের প্রদর্শনী করেছে প্রাণ বঙ্গ মিলার্স। এতে পাকিস্তানি বাসমতি, ব্ল্যাক রাইসসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের ধান চাষ করে সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় প্রাণ বঙ্গ মিলার্সের এ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন দিনাজপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল, উপজেলা কৃষিবিদ মো. গফ্ফার আল-হাদী এবং ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন। এ সময় প্রাণ কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকারিয়া হোসেন, কৃষিবিদ নওশাদ হোসেন, আকিনুজ্জামান, ধীমান রায়, রোমানুর রহমান, উজ্জ্বল খলিফা ও রায়হানুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গ মিলার্স সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে দামী বাসমতি আমদানি না করে দেশেই সেই মানের দীর্ঘ-সরু ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ব্ল্যাক রাইস ও কাটারী ধান উৎপাদনের মাধ্যমে চালের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এমন একটি ‘ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারা দেশেই বিশ্বমানের বাসমতি ও স্বাস্থ্যকর ব্ল্যাক রাইস পাবেন।


প্রদর্শনী চাষে দেখা গেছে, বাসমতি (পাকিস্তানি ও ভারতীয়) বিশ্বের দীর্ঘ ও সুগন্ধি চাল হিসেবে পরিচিত। ব্ল্যাক রাইস (ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া) অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। এর রঙ গাঢ় বেগুনি-কালো এবং স্বাদে বাদামের মতো। স্থানীয় কাটারী ধান দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রিমিয়াম চিকন চাল হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪, বাংলামতি এবং দুটি স্থানীয় মোটা জাতের ধানও প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বীজ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছে। ফলন ও মান সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময়ে কৃষক পর্যায়ে এসব বীজ সরবরাহের মাধ্যমে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্রিমিয়াম মানের বাসমতি ও লম্বা-সরু চালের ঘাটতি রয়েছে এবং উচ্চমূল্যের চালের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে প্রাণ বঙ্গ মিলার্সের গবেষণা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জলবায়ুর উপযোগী বাসমতি জাতের চাষাবাদ কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় এসব জাত সফল হলে ধান উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে সুগন্ধি ও রপ্তানিযোগ্য ধান উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রাণ কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, পরীক্ষামূলক চাষের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন