মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন ও জুলাই সনদ আইন যাচাই-বাছাই করেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। পর্যালোচনা এ জন্যই দরকার যে, দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন , ‘জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ওইসব অংশ বিএনপি তার অঙ্গীকার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি সবসময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ সনদের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিএনপি এ সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
তিনি আরও বলেছেন, দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করছে। এ কথাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বিচার বিভাগের সকল স্তরে বিদ্যমান দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর।
আইনজীবী সমিতির এই সভায় আইনমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে তার স্বরূপে ফিরিয়ে আনতে এবং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবীরা মৃত্যুর পর যেন এক কোটি টাকা পেতে পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড. গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
