বুড়িচংয়ে বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ, মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ


সৌরভ মাহমুদ হারুন (বুড়িচং) কুমিল্লা  : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই ডিলার বাড়ির দুই পরিবারের পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০–৫০ জনের বাড়িতে প্রবেশের (চলাচলের) রাস্তায় ১০ দিন ধরে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কয়েকটি কাঠের গাছ কেটেছে যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা।   এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হলে প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিন গং প্রতিনিয়ত শাহ পরানের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, ধমক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এতে বাদী পক্ষের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এজাহার সূত্রে এবং শাহ পরান জানান, জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই মফিজ ডিলারের বাড়ির শাহ পরানের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার আয়ূব আলীর ছেলে জসিম উদ্দিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহ পরানদের বাড়িতে প্রবেশের ৪০–৫০ জনের চলাচলের রাস্তা কাঠ, বাঁশ ও কাঁটা দিয়ে বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জসিম উদ্দিন গং মূল্যবান কয়েকটি কাঠের গাছ কেটে ফেলেছে যার মূল্য ৫০ হাজারের অধিক।

গত ১৭ এপ্রিল জসিম উদ্দিন গং রাস্তাটি বেড়া দেওয়ায় শাহ পরানদের প্রায় ৪০–৫০ জনের চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই পরিবারের লোকজন চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বিকল্প ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দিয়ে, ধানক্ষেত হয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।

এ ঘটনায় শাহ পরান বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ করেন। এতে প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিন গং ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ পরানের পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক হুমকি, ধমক ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং হত্যার হুমকিও দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহ পরান। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শাহ পরান আরও জানান, জসিম উদ্দিন ইতিপূর্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকবার ওই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন স্থানীয় অহিদুর রহমান মেম্বার ও এলাকার সাহেব সর্দার এগিয়ে এসে বেড়া তুলে দেন। এবারও তারা একই স্থানে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বলেন, “শাহ পরান আমার আপন ছোট ভাই। পারিবারিক বিরোধের কারণে আমি অন্যত্র আলাদা বাড়ি করে বসবাস করছি। গত ১৬ এপ্রিল আমি অসুস্থ হলে কুমিল্লা হাসপাতালে দেখতে গেলে শাহ পরান আমাকে কয়েকবার মারধর করে। এ ঘটনার বিচারের জন্য আমি রাস্তায় বেড়া দিয়েছি।”

বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। পারিবারিক বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বেড়া দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন