এজাহারে বয়স জালিয়াতি: নাটোর আদালতের কড়া হস্তক্ষেপ


আব্দুর মজিদ, নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় আসামি করার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী। মামলার নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিচারকের নজরে আসে বিস্ময়কর তথ্য। এজাহারে শিশুটির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ঘটনার সময় তার প্রকৃত বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে আদালত শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন এবং কেন তার প্রকৃত বয়স গোপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান।

আদালতের নির্দেশে আজ তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক বখতিয়ার হোসেন ও মামলার বাদী শাহানুর রহমান আদালতে হাজির হন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আসামিপক্ষ থেকেও প্রকৃত বয়স জানানো হয়নি। তিনি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন করেন।

তবে আদালত এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে কঠোর অবস্থান নেন। বিচারক নির্দেশ দেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা নিতে হবে। একই সঙ্গে ৭ দিনের মধ্যে শিশুটিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সময় আদালত বাদীর ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “বয়স দুই/এক বছর কমবেশি হতে পারে, কিন্তু ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি গুরুতর অপরাধ, এর কোনো ক্ষমা নেই।”

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল কাদের জানান, সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা তথ্য দিলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিচার ব্যবস্থায় সঠিক তথ্য প্রদানের গুরুত্ব আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন