- মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, ফল প্রকাশের পর আবেগঘন মুহূর্ত
সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৩৩ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর বুধবার (৬ মে) রাতে জেলা পুলিশ লাইন্সে দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। চাকরির খবর পেয়ে অনেকেই আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন, অভিভাবকদের চোখেও ছিল স্বপ্নপূরণের অশ্রু।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা রিফাত হাসানের গল্প সবার মন ছুঁয়ে যায়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রিফাতের বাবা একজন ট্রাকচালক এবং মা রওশনআরা বেগম সেলাইয়ের কাজ করেন। পুলিশের চাকরিতে নির্বাচিত হওয়ার খবর পেয়ে রিফাত মাকে ফোন করলে ফোনের অপর প্রান্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। মুহূর্তেই সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
একইভাবে আরিফিন হাসান আবীর, রিপা খাতুনসহ আরও অনেক প্রার্থীর চোখে ছিল স্বপ্নপূরণের আনন্দাশ্রু। কৃষক, দিনমজুর, ট্রাকচালক ও পিতৃহারা পরিবারের সন্তানদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত অভিভাবক ও স্বজনরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় ৩৩টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেন ২ হাজার ৮৭ জন প্রার্থী। শারীরিক সক্ষমতা যাচাই শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন ২৬৮ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৫৪ জন। পরে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে মেধাতালিকায় ৩৩ জন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ৫ জনসহ মোট ৩৮ জনকে নির্বাচন করা হয়।
পরবর্তী ধাপে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে নির্বাচিত ৩৩ জনকে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
ফলাফল ঘোষণার পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার বলেন, “সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবিরের সুযোগ ছিল না।”
একসময় পুলিশের চাকরি নিয়ে ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। তবে ঝিনাইদহে এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিনা টাকায় চাকরি পাওয়ার এই ঘটনা নতুন করে আস্থা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি।
