![]() |
| পরকীয়া এবং অন্যের স্ত্রীকে বিয়ের অভিযোগ এ টি এম আফসার মাহমুদের বিরুদ্ধে। ছবি : সংগৃহীত |
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরকীয়া, জালিয়াতি এবং এক শিশুকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার এ টি এম আফসার মাহমুদ (ব্যাচ-৭৬, এলসি)। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফুরান বিন ওয়ালি আইনি প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে নৌবাহিনী প্রধান বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ফুরান বিন ওয়ালির সাথে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর তানভিয়া তানহা মুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২২ সালে তানহার মোবাইল ফোনে কিছু পরকীয়া সংক্রান্ত কথোপকথন ধরা পড়ে। সে সময় বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়। তানহা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং ইনফ্লুয়েন্সার। পরবর্তীতে জানা যায়, অভিযুক্ত নৌবাহিনী কর্মকর্তা আফসার মাহমুদ এবং তানহা একই স্কুলের (বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট হাই স্কুল) প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পূর্ব সম্পর্ক ছিল।
অভিযোগকারী জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্যবসায়িক কাজে তিনি যখন চীনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন, সেই সুযোগে ১৬ই জুলাই ২০২৫ তারিখে তানহা তার বোনের জন্মদিনের কথা বলে ঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক, ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তির নথিপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ফুরান বিন ওয়ালি জানতে পারেন, আইনগত কোনো ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আফসার মাহমুদ ও তানহা মুন মগবাজার এলাকায় গোপনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রেকর্ড অনুযায়ী, ফুরান ও তানহার মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক এখনও আইনগতভাবে বিদ্যমান, যা দ্বিতীয় বিবাহ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
![]() |
| প্রথম স্ত্রীর সাথে অভিযুক্ত এ টি এম আফসার মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত |
অভিযোগে আরও বলা হয়, তানহা ও নৌবাহিনী কর্মকর্তা আফসার মাহমুদ যোগসাজশ করে ফুরান বিন ওয়ালিকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও হুমকি প্রদান করেন। বাচ্চার ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে এবং ডিভোর্সের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ফুরানের কাছ থেকে ব্যবসা ও ফ্ল্যাট লিখে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ছুটিতে এলে ওই কর্মকর্তা তানহার সাথে ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন যার ভিডিও প্রমাণ অভিযোগকারীর কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ওই কর্মকর্তার প্রভাবে তানহা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অভিযোগটি উঠে আসে চলতি বছরের ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। ওই দিন ফুরান বিন ওয়ালি তার কন্যাসন্তানকে নিজের কাছে ফেরত পাওয়ার পর দেখেন যে, শিশুটি চরমভাবে ট্রমাটাইজড (মানসিকভাবে বিপর্যস্ত) এবং আতঙ্কিত। শিশুটিকে দ্রুত বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে একটি ‘পুলিশ কেস’ (Police Case) হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তদন্তের জন্য নথিতে সিলমোহর দেয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পিতার। নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ী ফুরান বিন ওয়ালি সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনের সাথে তিনি কাবিননামা, সন্তানের পাসপোর্টের কপি, পরকীয়ার প্রমাণ, দ্বিতীয় বিয়ের ছবি, হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন এবং সিটি কর্পোরেশনের ডিভোর্স না হওয়ার প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবারটি অনতিবিলম্বে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র : দৈনিক রূপবানী

