মুরাদনগরে ইয়াছিন আরাফাত নামের যুবকের প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব তরুণী, আদালতে মামলা

অভিযুক্ত যুবক ইয়াছিন আরাফাত ও ভুক্তভোগী তরুণী। ছবি : সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা মুরাদনগরে ইয়াছিন আরাফাত নামের এক যুবকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে এক তরুণী। 

অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মোঃ সুলতান আহমদ এর ছেলে।

মামলার বিবরণীতে জানা যায় যে, ভিকটিম তরুণী একজন প্রবাসীর স্ত্রী ছিল ,একে অপরের প্রতিবেশী, স্বামী প্রবাসে থাকায় ভিকটিম তার তিন মেয়ে নিয়ে ঢাকার সবুজ বাগ থানাধীন মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন,অভিযুক্ত  ইয়াছিন আরাফাত ও পাশাপাশি ভাড়া বাসায় থাকতেন, পাশাপাশি বাসা হওয়ায় তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে, এর মধ্যে মোবাইলে চলে তাদের কথাবার্তা ও চ্যাটিং,এক সময়ে তরুণীর স্বামী ইয়াছিন আরাফাত এর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরে তরুনীকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন।

গত ০৭/০৮/২০২৫ তারিখে ইয়াছিন আরাফাত ভিকটিমের বাড়ীতে এসে ভিকটিম  কে বিয়ের আশ্বাসে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে রাজি করায়,  পরে ভিকটিম কে বিবাহের দিন তারিখ ধার্য্য করে  ঢাকার মাদারটেক এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভারা নিয়ে  বাসায় উঠে ইয়াছিন আরাফাত,। 

গত ১২ /০৯/২০২৫ তারিখে ইয়াছিন আরাফাত এর ভাড়াকৃত বাসায় একজন হুজুর এনে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে ভিকটিম কে বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। 

ভিকটিম বাসা সাজানোর জন্য  ইয়াছিন আরাফাত কে আট লক্ষ বত্রিশ হাজার ছয়শত টাকার ফার্ণিচার কিনে দেন এবং তিন লক্ষ টাকা ইয়াছিন আরাফাত কে নগদ প্রদান করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর ভিকটিম জানতে পারে ইয়াছিন আরাফাত পূর্বে আরো একটি বিয়ে করেছে, সে বিয়ের কথা তার নিকটে গোপন রাখেন, ইয়াছিন আরাফাত কে পূর্বের স্ত্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে শুরু হয় দন্ধ, এর ই মধ্যে ভিকটিম কে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং একটি খালি ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয় ইয়াছিন আরাফাত, এ বিষয়ে ভিকটি শারিরীক ও মানুষিক ভাবে বিকারগস্ত হলে গত ৩০ /১০  /২০২৫ তারিখে   মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ভিকটিমের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

গত ৪/১১/২০২৫ তারিখে ইয়াছিন আরাফাত কে ভিকটিম তার বাসায় নেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত বলেন তোর আর ঢাকায় আসতে হবে না, আমি বাসা ছেড়ে দিয়েছি, তোর সাথে আমার যা হয়েছে তা ভূলে যা, এই বিয়ের কোন মূল্য নেই।

এ বিষয়ে ভিকটিম বলেন ইয়াছিন আরাফাত একজন প্রতারক, সে অনলাইনে প্রতারণার ব্যবসা করে মানুষ কে ঠকায়, সে আগে ও এলাকায় এক মেয়ের সাথে প্রতারণা করে ৭০ হাজার টাকা জড়িমানা দিয়ে পার পেয়ে যায়, তার অনেক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে,সে ৬/৭ আগে বিয়ে করার পর ও সে তার কোন সন্তান নেয় না, শুধু মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কারণে, ইয়াছিন আরাফাত ও মামুন মিলে আমাকে প্রতি নিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, আমার ছবি ও মোবাইল নাম্বর ব্যবহার করে ফেইসবুকে ভুয়া আইডি খুলে আমার আমার মান সম্মান নষ্ট করতেছে, আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই। 

এ বিষয়ে ভিকটিম বাদী হয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিঃ ১১নং আমলী আদালতে ইয়াছিন আরাফাত কে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেন, বিজ্ঞ আদালত তদন্তের জন্য মুরাদনগর থানাকে দায়িত্ব দিলে পুলিশ ইয়াছিন আরাফাত (২৬) ও তার সহযোগী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কবির হোসেন এর ছেলে মামুন মোল্লাকে (৩০) অভিযুক্ত করে তদন্তের রিপোর্ট দেন। 

বিজ্ঞ আদালত তদন্তের রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যদি বিয়ে করি তাহলে কাবিন নামা দিতে বলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন