নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী 'মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬'। আগামী ৪-৫-৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ লন্ডনের বিখ্যাত রেডব্রিজ টাউন হলে এই এক্সপো মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করা'।
তিন দিনব্যাপী এই মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, চেম্বার অব কমার্স, বাণিজ্য সমিতি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।
‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো-২০২৬’ মূলত একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রদর্শনী, যা যুক্তরাজ্যের বুকে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুনভাবে পরিচিত করাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ জনেরও বেশি প্রদর্শক এবং প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক, শীর্ষ বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মেলায় উপস্থিত থাকবেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, আইসিটি, নবায়নযোগ্য শক্তি, আবাসন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির শক্তি ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে।
এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বার্ষিক
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড। আয়োজকদের মতে, এই এক্সপো দুই দেশের মধ্যকার এই বাণিজ্যকে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ১০টি অর্থনৈতিক খাতকে বিশেষভাবে ফোকাস করা হচ্ছে। প্রথমত, রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকের গুণগত মান ও নতুন নকশা তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে থাকছে পাট ও প্রাকৃতিক তন্তুজাত পণ্য। পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা সামনে রেখে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ প্রদর্শন করা হবে মেলায়। চামড়া ও পাদুকা শিল্পকেও এই মেলায় অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে রাখা হয়েছে, যা ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উপস্থাপন করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা বা আইসিটি খাতের প্রসার এবং বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার খাতের সক্ষমতা ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে। কৃষি ও খাদ্যজাত পণ্য, নবায়নযোগ্য শক্তি ও গ্রিন টেকনোলজি, আবাসন ও অবকাঠামো খাত, পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এবং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি বা সৃজনশীল শিল্পকে এই মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে।
