পদের প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে, থানায় জিডি"তদন্তে নেমেছে কমিটি

পদের প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে, থানায় জিডি"তদন্তে নেমেছে কমিটি


চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামে রাজনৈতিক পদ-পদবি ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে দলের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর দ্য পেনিনসুলা চিটাগং হোটেলের ১৫ তলার রুফটপে কমিটি গঠন সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে দেখেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে তাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধার আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে এসব প্রস্তাবের আড়ালে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

শুক্রবার নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, তাকে ওই স্থানে যেতে বলেন সাদিয়া আফরিন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি টেবিলে সুজা উদ্দীনসহ আরও দুজন পুরুষ এবং সাদিয়া আফরিন উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের পানীয় গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং কোন ধরনের ড্রিংকস পছন্দ তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি এতে অস্বস্তি প্রকাশ করলে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন।

তার দাবি, বৈঠকের একপর্যায়ে সুজা উদ্দীন তাকে ধূমপান ও মদ্যপানে উৎসাহিত করেন এবং রাজনৈতিক পদ ও আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। কিছু সময় পর সাদিয়া আফরিন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সুজা উদ্দীন তাকে বারবার নিজের পাশে বসার জন্য অনুরোধ করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী।

তিনি জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। পরে প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাকে “ডিল অর ডেথ” ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান সৈকত জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম নগরীর সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং এনসিপির একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং এনসিপির নারী শাখার পদপ্রত্যাশী হিসেবেও পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ অংশটি বার হিসেবে পরিচালিত হয়। হোটেলের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তবে হোটেলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তদন্ত কার্যক্রমে হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা ও দায় নির্ধারণে পুলিশি তদন্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্টদের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন