হাফেজ নজরুল : স্ত্রী তাহমিনা ও ছোট বোনের স্বামী রবিউলের পরকিয়ার বলি বাঞ্ছারামপুরের হেলাল উদ্দিন।
ভিকটিম হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন এর নিজকান্দি গ্রামের শাহআলম মাস্টারের ছেলে।
এ বিষয়ে গত ২৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আদালতে স্বামী রবিউল ও ভাবী তাহমিনাসহ ৪ জনের নামে মামলার আবেদন করেন নিহত হেলাল উদ্দিনের ছোট বোন ফারজানা আক্তার।
মামলার আবেদন সূত্রে জানা যায় যে, হেলাল উদ্দিন ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করত, হেলাল উদ্দিন চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় থাকত, এ সুযোগে দীর্ঘ এক বছর ধরে হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী তাহমিনা ও তার ছোট বোনের স্বামী রবিউলের সাথে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে রবিউল প্রায় সময় স্ত্রীকে ফাঁকি দিয়ে তাহমিনার সাথে শারিরীক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে।
ফারজানা তার স্বামী রবিউল কে এ রাস্তা থেকে ফিরিয়ে নিতে অনেক চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়েছে।
এদের অবৈধ সম্পর্কের বড় বাঁধা হচ্ছে হেলাল উদ্দিন, তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা করে তারা, হেলাল উদ্দিনকে ঢাকা থেকে চাকুরী ছাড়িয়ে ছোট বোনের স্বামীর সাথে কাজ করলে ভালো বেতন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে ভিকটিম তার কথায় বিশ্বাস করে ঢাকা থেকে বাঞ্ছারামপুর কড়িকান্দি এসে কাজে যোগ দেয়।
হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক রবিউল আওয়াল বাঞ্ছারামপুর কড়িকান্দি উত্তর পাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
সে আকিজগ্রুপের ডিলার হয়ে ব্যবসা করত, গত ১৪ এপ্রিল ঢাকা থেকে এসে রবিউলের নিকট এসে কাজে যোগ দেন হেলাল উদ্দিন, পরের দিন ১৫ এপ্রিল সকাল অনুমান ১১ ঘটিকার সময়ে মালামাল বহন কারী মালবোঝাই ভ্যান গাড়ী চালক ছিল রবিউল, পাশে বসে ছিল ভিকটিম হেলাল উদ্দিন। উপজেলার ছয়আনি ব্রীজের পশ্চিম ঢালে আসা মাত্র হেলাল উদ্দিন কে হত্যার উদ্দেশ্যে ভ্যান গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে রবিউল নেমে গেলে ভিকটিম হেলাল উদ্দিনসহ মালবোঝাই গাড়ীর নিচে হেলাল পড়ে গিয়ে তার গাড় ভেঙে গুরুতর আহত হয়, হেলাল উদ্দিন এর দূর্ঘটনার খবর তার স্ত্রী সাথে সাথে জানলে ও ভিকটিমের অসুস্থ বাবা ও বোন জানতে পারে বিকেল ৪ টায় প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকায় নিতে বললে ও অভিযুক্তদের অবহেলায় বিকেলে ঢাকায় রওয়ানা দিয়ে সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করায় গত ২০ এপ্রিল রাত ৮ ঘটিকার সময়ে চিকিৎসারত অবস্থায় হেলাল উদ্দিন মারা যায়।
হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার গত প্রায় ৫ বছর ধরে পাশের গ্রামের এক অটো চালকের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন বাঁধা দিলে ও সে বাঁধা না মানায় রাগে ক্ষোভে প্রায় ৫ বছর পূর্বে শাশুড়ী আত্মহত্যা করে।
এরপর ও তাহমিনার অবৈধ পরকিয়া থেমে থাকেনি। গত ৩ বছর পূর্বে অটো চাকল প্রেমিক প্রবাসে চলে গেলে মোবাইলে তার সাথে যোগাযোগ রাখলে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে রবিউলের সাথে।
