ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং নিমসার কাঁচাবাজার এলাকায় জমছে আবর্জনার স্তূপ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

 


সৌরভ মাহমুদ হারুন : জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার এলাকার প্রসিদ্ধ কাঁচাবাজারে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দিন দিন জমে উঠছে আবর্জনার স্তূপ। এতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ এবং সৃষ্টি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা এখানে বিক্রির জন্য আসেন। একইভাবে খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান। তবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত ও পচনশীল শাকসবজি ও ফলমূল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মহাসড়কের পাশেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারটিতে কয়েক হাজার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী থাকলেও নেই কোনো নির্ধারিত ডাস্টবিন বা কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ফলে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই বাজারসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। বিশেষ করে ফুটওভারপাসের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, সড়কের দক্ষিণ পাশে আন্তঃজেলা ট্রাকচালকদের বিশ্রামাগার থেকে কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত এলাকায় প্রতিদিন কয়েক টন পচা শাকসবজি ও ফলমূলের বর্জ্য জমা হচ্ছে।

এসব আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুতগতির যানবাহনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নির্মিত ফুটওভারপাস ও সড়কদ্বীপেও জমছে আবর্জনার স্তূপ।

বাজার এলাকায় কথা হয় রাজশাহী থেকে আসা পাইকারি আম ব্যবসায়ী শাহ আলম, ঝালকাঠি থেকে আমড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী স্বপ্ন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনসহ আরও অনেক ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে। তারা বলেন, এত বড় একটি বাজার থেকে সরকার বছরে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও এখানে একটি পাবলিক টয়লেট পর্যন্ত নেই। ফলে মহাসড়কের দুই পাশ ও সড়কদ্বীপে অনেকেই বাধ্য হয়ে মলমূত্র ত্যাগ করছেন। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব মলমূত্র ও আবর্জনা মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

নিমসার বাজারের ইজারাদার সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য প্রশাসন যেন একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেয়, সেই অনুরোধ করেছি। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে পচা শাকসবজি ও ফলমূল ফেলছেন। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধযুক্ত পানি মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ছে।"

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, "নিমসার বাজার একটি বৃহৎ পাইকারি বাজার। সেখানে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি সত্য। ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কিছু ব্যয় রয়েছে। আমরা বিষয়টি কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।"

স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন মহল দ্রুত নিমসার বাজারে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন