সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের অভিযান
সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহে ইজিবাইক চালককে অপহরণ করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন লুণ্ঠনের ঘটনায় দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত একটি ইজিবাইক, একটি মোবাইল ফোন, আরও আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩,৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মিশকাত (১৪) বাবার মৃত্যুর পর একটি ইজিবাইক চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ৫টার দিকে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চার ব্যক্তি যাত্রীর ছদ্মবেশে তার ইজিবাইকে ওঠে। পরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুতরের খাল বংকিরা মাঠসংলগ্ন নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন লুণ্ঠন করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় রুজু হয়।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, পিপিএম, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানার সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দস্যুতা চক্রের মূল সদস্য আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ, জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০) এবং আখতার মোল্লা (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) এবং আশরাফুল ইসলাম (৪২)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ইজিবাইক, একটি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, আরও আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩,৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দস্যুতা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
