উত্তরায় ওয়াকফ্ এর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, শীর্ষ সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামান সৌরভ ও যুবলীগ ক্যাডার আনোয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে
ক্রাইম রিপোর্টারঃ
রাজধানী উত্তরার রানাভোলা এলাকায় একাধিক সরকারি জমি ও ওয়াকফাকৃত ৫ একর জমি অবৈধভাবে জবর দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেছে আলোচিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অন্যতম দোসর সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের কথিত ক্যাশিয়ার আসাদুজ্জামান সৌরভ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের কথিত ভাই যুবলীগ ক্যাডার কাইল্লা আনোয়ার।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, রাজধানী উত্তরা রানাভোলা এলাকায়, আইনউদ্দিন হায়দার ও ফয়জুননেসা ওয়াকফ্ এস্টেট’-এর প্রায় ৫ একর মূল্যবান ধর্মীয় সম্পত্তি জবর দখলের করতে গিয়ে এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তাণ্ডব লীলা চালিয়েছে উল্লেখিত আসাদুজ্জামান সৌরভ ও কাইল্লা আনোয়ারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। এছাড়াও উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্র এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত একাধিক সরকারি খাস জমি জবরদখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের গুম খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উক্ত ওয়াকফকৃত সম্পত্তি রক্ষায় বাধা দেওয়ায় উল্লেখিত জমির লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করে মারধর ও তাহাদের নিকট থেকে নগদ অর্থ এবং প্রয়োজনীয় মালামাল লুটপাট করে ছিনিয়ে নিয়েছে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা।
অভিযুক্ত সন্ত্রাসীবাহিনীর মূল হোতা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অন্যতম দোসর এবং অপরজন প্রশাসনের সাবেক সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলেই বিভিন্ন ধরনের হামলা মামলা সহ প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বিধায় কেউ কোন প্রকার প্রতিবাদ ও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে অপারগতা পোষণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উল্লেখিত আসাদুজ্জামান সৌরভ এবং কাইল্লা আনোয়ার অত্র এলাকায় একাধিক জবরদখল, চাঁদাবাজি ও গুম খুন সহ সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে রিতীমত আঙুল ফুলে কলা গাছ বনেছেন। এমনকি ঐসকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমানেও তারা বিএনপি সরকারের কিছু নামধারী ও সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের যোগসাজশ ও সহযোগীতায়, নগদ অর্থের বিনিময়ে তাহাদের পূর্বের পরিচালিত সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলমান রেখেছেন।
এ-বিষয়ে ওয়াকফ্কৃত সম্পত্তির বৈধ লীজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান "শেখ এশিয়া লিমিটেড" এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন শেখ, এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, উক্ত সম্পত্তি অবৈধ জবর দখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি আমাদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ পরিদর্শক আইজিপি, র্যাব মহাপরিচালক, র্যা-১১ অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক ঢাকা, উপ পুলিশ কমিশনার বরাব উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের সহ অনতিবিলম্বে উক্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সত্যতা সরেজমিনে যাচাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান দুই হোতা সহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরোও ২০ থেকে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ সহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ্য উত্তরা এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে অপব্যবহাকারী ওয়াকফ্ সম্পত্তির দখলদার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে দ্য ওয়াকফ্ অর্ডিন্যান্স,১৯৬২ ও ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জানমালের নিরাপত্তার আকুল আবেদনে নিম্নের আসামিগনের নাম উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখিত আসামিরা হলেন, ১/আসাদুজ্জামান সৌরভ, ডিবি হারুন এর কথিত ক্যাশিয়ার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার। ২/ কাইল্যা আনোয়ার, যুবলীগ নেতা ও ক্যাডার, সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার। ৩/ ফাতেমা ফেরদৌসী, আনোয়ারের সহযোগী ক্যাডার বাহিনীর সদস্য। ৪/ হাজী সাঈদ, এলাকার চিহ্নিত ক্যাডার ও মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ দের আশ্রয় দাতা। ৫/ লুৎফর, ক্যাডার বাহিনীর সদস্য ও চাঁদাবাজ। ৬/ আরাফাত, উত্তরা রানাভোলা বাজারকেন্দ্রিক ক্যাডার ও চাঁদাবাজ। ৭/ মতি, বাজারকেন্দ্রিক ক্যাডার, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। ৮/ রশীদ, সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য। ৯/ রাবি, বাজারকেন্দ্রিক ক্যাডার ও মাদক ব্যবসায়ী। ১০/ জাহাঙ্গীর, চাঁদাবাজ ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের ভাই। ১১/ মোঃ রিয়াজ, ক্যাডার ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। ১২/ মোঃ শাহীন,ক্যাডার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে উক্ত অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
উক্ত অভিযোগে আরোও যে, উল্লেখিত গত ২১/০৯/২০২৫ ইং তারিখে উক্ত লিজকৃত ওয়াকফ্ সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর উল্লিখিত ভূমিদস্যু চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, অতর্কিত হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীরা কোম্পানির সীমানা নির্দেশক সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে এবং দেশীয় অস্ত্র (দা, লাঠি, লোহার রড) নিয়ে হামলা চালিয়ে লিজকৃত জমির কর্মচারীদের গুরুতর জখম করা সহ, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য রক্ষিত নগদ ১,৮০,০০০/- (এক লক্ষ আশি হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা বিবাদীদেরকে হত্যার হুমকি প্রদান করে।
এমনকি পরবর্তীকালে উক্ত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রেক্ষিতে পুনরায় গত ৩০/০৯/২০২৫ ইং তারিখ বিকেল ৪:৩০ ঘটিকায় উত্তরা ৭নং সেক্টরের বিএনএস সেন্টারের পেছনে, রেড চিকেন রেস্টুরেন্টে' উক্ত সম্পত্তির বৈধ লিজ গ্রহণকারী কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ মহিউদ্দিন শেখ, কোম্পানীর আরোও ৪ জন কর্মকর্তাসহ ৩ জন পেশাদার সাংবাদিক উল্লেখিত কোম্পানির একটি ব্যবসায়ীক পরামর্শ সংক্রান্ত বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা পূনরায় সশস্ত্র হামলার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া সহ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পেশাদার গণমাধ্যম কর্মীদেরকেও মারধর করে।
উক্ত সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে মহিউদ্দিন শেখ বলেন, উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা অত্র এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাবাজি, জবরদখল ও গুম খুনসহ সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমাদেরকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা এবং মিথ্যা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে উক্ত লিজকৃত জমি অবৈধভাবে তাদের দখলে নেওয়া।
তিনি আরোও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়েরকৃত একাধিক মিথ্যা মামলায় জরানো হয়েছে।
উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কাইল্যা আনোয়ার এবং আসাদুজ্জামান সৌরভের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে, তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে এসএমএস এর মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো প্রকার সাড়া মেলেনি।
এমতাবস্থায় এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মনে করেন উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
