আব্দুল মজিদ, নাটোর :
নাটোরে চার্জার ভ্যানচালক কিশোর মো. প্রান্তকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাগাতিপাড়া উপজেলার বেগুনিয়া গ্রামের আব্দুল হামেদের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম, একই গ্রামের খোদা বক্স মণ্ডলের ছেলে মাজেদুল মণ্ডল, মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রানা এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মোস্তফা মণ্ডলের ছেলে লিটন ওরফে মিঠন মণ্ডল।
এ ছাড়া রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. শওকত আলী মণ্ডলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার অপর ধারায় তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শওকত আলী মণ্ডলের অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। সব দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আদায়কৃত অর্থদণ্ডের মধ্যে মামলার ব্যয় বাবদ তিন লাখ টাকা রেখে অবশিষ্ট অর্থ বাদীকে প্রদান করা হবে। পলাতক আসামি মো. রানাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার দণ্ড কার্যকর হবে। অন্য আসামিরা হাজতে থাকা সময় দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করার সুবিধা পাবেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামের জিয়া সর্দারের ছেলে মো. প্রান্ত (১৬) চার্জার ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিন ব্যক্তি আড়ানী বাজার থেকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা বাজারে যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যান ভাড়া করেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধে হত্যা করা তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জিয়া সর্দার বাগাতিপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। বিচার চলাকালে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
নাটোর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রয়োজনে এটি জাতীয় দৈনিকের স্টাইলে আরও সংক্ষিপ্ত বা টিভি/অনলাইন নিউজের উপযোগী করেও সাজিয়ে দিতে পারি।
