মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জমজমাট সমাপনী বাগাতিপাড়ায়



খেলার মাঠে উচ্ছ্বাস, পুরস্কারে প্রেরণা

আব্দুল মজিদ, নাটোর : মাঠজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা আর বিজয়ের আনন্দ। কেউ হাতে ধরে আছে সনদপত্র, কেউবা পুরস্কার নিয়ে হাসিমুখে সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলছে। শিক্ষক অভিভাবকদের উৎসাহ আর অতিথিদের প্রেরণামূলক বক্তব্যে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছিল বাগাতিপাড়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ।

এমনই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় বাংলাদেশ স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ছিল আনন্দ, গর্ব আর নতুন স্বপ্নের আবেশ।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সালাউদ্দিন ডলারের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াজেদ আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুল ইসলাম।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নেকবর হোসেন। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু রায়হানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিযোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সনদপত্র। দাবা, সাঁতার, কাবাডি ও হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে করতালি ও উচ্ছ্বাস। পুরস্কার হাতে পেয়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে না। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামুখী হওয়ার পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মনোভাব তৈরি করে।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাঠজুড়ে যেন অন্যরকম এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। কারও হাতে পুরস্কার, কারও গলায় সনদপত্র, আবার কারও চোখে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার স্বপ্ন। শিক্ষকদের মুখে ছিল প্রিয় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গর্ব, আর শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল নতুন অর্জনের প্রত্যয়।

একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হলেও এর মধ্য দিয়ে যেন শুরু হলো আরও অনেক স্বপ্নের পথচলা। আজকের এই ছোট্ট মাঠ, ছোট্ট পুরস্কার আর ছোট্ট সাফল্যই হয়তো আগামী দিনের কোনো ক্রীড়াবিদের বড় পরিচয়ের প্রথম ধাপ।

বাগাতিপাড়ার এই আয়োজন তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়; এটি ছিল শিক্ষার্থীদের সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দেওয়ার এক প্রাণবন্ত বার্তা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন