ভূমি জরিপ কর্মচারী শাজাহানের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অবৈধ অর্থে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়

ভূমি জরিপ কর্মচারী শাজাহানের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অবৈধ অর্থে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড় 



ক্রাইম রিপোর্টারঃ

ডিজিটাল ভূমি জরিপ (বিডিএস) এর জরিপ কর্মচারী সরদার আমিন মোঃ শাজাহান এর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। 

বাংলাদেশ সচিবালয়ের অন্তর্ভুক্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সেটেলমেন্ট অফিস/ভূমি জরিপ শাখা। 

মূলত এই অফিসের কার্যক্রম হলো সংশ্লিষ্ট অফিসের সার্ভেয়ার আমিন দ্বারা ভূমি সঠিক ভাবে মাপজোখ করে মৌজার নকশা তৈরি করা এবং ধারাবাহিকভাবে এই সংক্রান্ত জরিপের হালনাগাদ জরিপ পরিচালনা করে মৌজার সীমানা নির্ধারণ ও নকশা তৈরি করা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ইং সাল থেকে দীর্ঘদিন যাবত সংশ্লিষ্ট সেটেলমেন্ট অফিসের একজন সরদার আমিন হিসেবে মোঃ শাজাহান দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ধারাবাহিকভাবে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। যার মধ্যে প্রকৃত জমির মালিকদের নিকট হইতে জরিপ সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমির কাগজপত্রের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় সহ পর্চা ও খতিয়ানে ভূমির পরিমাণ ও নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য  অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে একাধিক জমি ও বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। 

জানা যায়, তার জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্মতারিখ অনুযায়ী চাকুরীর সময়সীমা দশ বছর পূর্বে অতিবাহিত হলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরায় সংশোধন করে তার বয়স ১০ বছর কমিয়ে চাকরীতে বহাল রয়েছেন তিনি।

২০২৪ইং, সালে  মানিকগঞ্জের ঘ্যাওয়ার উপজেলার জাব্রা, মৌজায় জরিপ চলাকালীন সময়ে, মোঃ পিন্টু, আব্দুল হক, কালু মিয়া ও চিত্তরঞ্জন সহ একাধিক ভূমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও মানিকগঞ্জ জেলার, শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া মৌজাসহ আরোও একাধিক মৌজার ভূমি জরিপ চলাকালীন সময়ে, ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের নিকট থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার মধ্যে আব্দুল হাতেম, মোঃ মজিবর, কিতাব আলী মাদাবর, বাদশামিয়া সহ শতাধিক ব্যক্তির নিকট থেকে উল্লেখিত উপজেলার স্থানীয় জনৈক পান্নু ফকিরের মধ্যস্থতায় ঐ সকল ভূমির মালিকদের কাছ থেকে কাগজপত্রের বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

তৎকালীন সময়ে ঐ সকল জরিপকৃত এলাকার সাধারণ সেবা গ্রহীতারাসহ উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা তার এই সীমাহীন দুর্নীতির কাছে অসহায় হয়ে একাধিক সেবা গ্রহীতা ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে ১২/০৮/২০২৪ইং সালে উপজেলার জরিপ শাখার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে সংশ্লিষ্ট সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার তার বিরুদ্ধে আর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। 

উল্লেখ্য যে, মাদারীপুর জেলার, শিবচর উপজেলার- আওতাধীন ৯৬ নং কাঠালবাড়ি মৌজার জরিপ চলাকালীন সময়েও তিনি কাঠালবাড়ি মৌজা সহ একাধিক মৌজায় ভূমি জরিপ  সংক্রান্ত সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কাগজপত্রের জটিলতা দেখিয়ে এবং ভূমির মালিকানার পর্চা অনুযায়ী উল্লেখিত ভূমির পরিমাণ সরেজমিনে কম দেখিয়ে উক্ত ভূমি সঠিক মাপে জরিপের মাধ্যমে পর্চায় উল্লেখ্য করার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

বর্তমানে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া মৌজায় জরিপ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিচালনা করে আসছেন। উল্লেখ্য যে গত ৩০ জুন ২০২৬ ইং, সরদার আমিন শাহজাহানের চাকরির সময়সীমা পার হয়ে গেলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কোনরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা নাকরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উক্ত এলাকায় জরিপ কার্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন এবং জরিপ কার্য পরিচালনার সময় ভূমি সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করার জন্য সেবা গ্রহীতাদের বলেন যে, কাগজপত্রে জটিলতা থাকলে নগদ অর্থ প্রদান করতে হয়, তা,না-হলে পর্চায় ভূমির সঠিক পরিমাপ লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়, এবং তিনি সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে আদায়কৃত নগদ অর্থ নেয়ার সময় বলেন যে, এই অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট উচ্চ-পদস্থদের প্রদান করতে হয়। যার কারণে নগদ অর্থ ব্যতীত কোন অবস্থাতেই ভূমির সঠিক জরিপ কার্য সম্পন্ন  করা সম্ভব না। 

এমতাবস্থায় সাধারণ সেবা গ্রহিতা ও সচেতন মহলের প্রশ্ন হল একজন অবসরপ্রাপ্ত সরদার আমিন সংশ্লিষ্ট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া কিভাবে জরিপ কার্য পরিচালনা করছেন? তাই সেবা গ্রহীতা ও সচেতন মহল উক্ত শাহজাহানের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সেটেলমেন্ট  অফিস সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

উল্লেখ্য যে, সরদার আমিন শাজাহান মাত্র ১৪ হাজার ৫ শত টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করে তার গ্রামের বাড়ি লাকসামে চার তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একটি ভবন, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়াও নামে বেনামে একাধিক জমি জমাও রয়েছে তার। 

সূত্র আরোও জানায়, অভিযুক্ত শাজাহান বিভিন্ন জেলায় জরিপকার্য পরিচালনার সময় সেবা নিতে আসা নারী সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ-বিষয়ে ভুক্তভোগী শাজাহানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার চাকরির মেয়াদ গত ১ আগস্ট শেষ  হলেও আমি পুনোরায় নিয়োগের জন্য আবেদন করেছি। আগামী পনের দিনের মধ্যে আমার নিয়োগ পত্র চলে আসবে। তাই বর্তমানে আমি সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার ও দায়িত্বরত সার্ভেয়ারদের অনুমতি নিয়েই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।


সরদার আমিন শাজাহান সম্পর্কে আরোও দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত আসছে ২য় পর্বে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন