হোমনায় মুক্ত-জীবন ফাউন্ডেশনের ১৩ বছর পূর্তি

  • নৌ-ভ্রমণ, স্মরণিকা উন্মোচন ও আলোচনা সভা

হাফেজ নজরুল : কুমিল্লার হোমনায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবিক সংগঠন মুক্ত-জীবন ফাউন্ডেশনের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে নৌ-ভ্রমণ, স্মরণিকা উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর থেকে লঞ্চযোগে স্বপ্নদ্বীপের উদ্দেশে নৌ-ভ্রমণ শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে সংগঠনের সদস্য, রক্তদাতা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত রক্তবন্ধুরা অংশ নেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রক্তবন্ধু মো. রোবেল রানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক তৌকির আহমেদ। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর সুমন, অধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম, সৈকত আলী মোল্লা, সৈয়দ আনোয়ার ও ডা. কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত রক্তবন্ধু ও পরিবেশকর্মীরাও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহরিয়ার কবির (হৃদয়)।

এ সময় মুক্ত-জীবন ফাউন্ডেশনের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ম্যাগাজিনের উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের ১৩ বছরের মানবিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২০১৩ সালে কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মুক্ত-জীবনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে রক্তদানের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, শীতবস্ত্র ও খাদ্য সহায়তা, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মুক্ত-জীবনের সঙ্গে ৪০০-এর বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদাতা যুক্ত রয়েছেন। সংগঠনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ব্যাগ রক্তদান করা হয়েছে। এছাড়া হোমনা, বাঞ্ছারামপুর ও মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়েছে।

গত ১৩ বছরে প্রায় ১০ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ, প্রায় ২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, দেড় হাজারের বেশি মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রায় ১৫০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে ভর্তি সহায়তা, বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংগঠনের নিজস্ব পাঠাগারে রয়েছে ২ হাজারের বেশি বই।

করোনাকালেও সংগঠনটি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ওই সময়ে প্রায় ১ লাখ মাস্ক বিতরণ এবং প্রায় ১ হাজার পরিবারকে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুক্ত-জীবন ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি মানবিক চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও রয়েছে।

বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদানের ছোট্ট উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া মুক্ত-জীবনের ১৩ বছরের পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস। আগামী দিনেও মানুষের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন