নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাদক বিক্রির ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা ইউপি সদস্য রেখা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ। উপজেলার কুঠিবাশবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রেখা বেগম কুঠিবাশবাড়িয়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী এবং ৩ নম্বর বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার নুরপুর মালঞ্চী এলাকায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় জনতার হাতে আকাশ ও শাকিল নামে দুই যুবক আটক হন। আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মাদক বিক্রির ঘটনাকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাদের মাদক বিক্রি এবং মাদক সংগ্রহের বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বাগাতিপাড়া মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় কুঠিবাশবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেখা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রেখা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছি। নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলে নির্দেশে আমরা ঐক্যবদ্ধ। মাদক কারবারি যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এলাকার মানুষকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশে আমরা সবসময় থাকব। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।”
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তরু বলেন, “রেখা মেম্বারের বিরুদ্ধে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আকাশ ও শাকিলকে মাদক বিক্রির সময় স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর থাকবে।”
বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফাইমা খাতুন বলেন, “একই পরিষদে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় আমি অবাক হয়েছি। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার। মাদক কারবার বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূল করা জরুরি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় রেখা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় অবাদে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তাদের আরও দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হলে বাগাতিপাড়াকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
