বিশ্বনাথে পৈত্রিক ভূমি আত্মসাথে বাদীর উপর মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতি‌বেদক : বিশ্বনাথে পৈত্রিক ভূমি আত্মসাথে বাদীর উপর মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় সিঙ্গেরকাছ এলাকার সিংরাওয়ালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের পুত্র  শানুর আলীর পরিবারের উপর নানা ভাবে অত্যাচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শানুর আলী একজন কৃষক ও দিনমজুর। দীর্ঘদিন যাবৎ শানুর আলীর  পৈত্রিক সম্পত্তি সিঙ্গেরকাছ মৌজার এস.এ-১৫৩৯ নং খতিয়ানের এস.এ-৪৫৪ নং দাগে ৪৬ শতক ভূমি নিয়ে একই গ্রামের টুনু মিয়া গং এর সাথে বিরোধ থাকায় আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় টুনু মিয়াগাং জোরপূর্বক পাকা ঘর নির্মাণ করে এবং আদালত ঐ ভূমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করা অবস্থায় তারা অবৈধভাবে গাছ কেটে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ করে নেয়। তবে এব্যাপারে সত্ত মামলা নং ৪৭/২৫ ও বিবিধ মামলা নং ২৬/২৫ আদালতে রয়েছে। ভুমি খেকো টুনু মিয়া গং প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় প্রায়ই শানুর আলীর পরিবার হয়রানীর শিকার হতে হয়। জানা গেছে, ভূমি দখলকারী টুনু মিয় গং জাল দলিল তৈরী করে আদালতকে দেখায়। কিন্তু তাদের এ কাগজ আদালতে কাজে আসবে না ভেবে ইদানিং শানুর আলীকে আদালত থেকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। মামলা নং- ৪৭/২৫। এমতাবস্থায় প্রেক্ষিতে গত ১০ই মে রোজ রবিবার প্রতিদিনের ন্যায় দুপুর ৩.০০ ঘটিকার দিকে শানুর আলীর গরুকে ঘাস খাওয়ানোর পর বাড়িতে নিয়ে আসার পথে উৎ পেতে থাকা (১) আব্দুল আমিন, পিতা: সিরাজ মিয়া (২) বিল্লাল মিয়া, পিতা: টুনু মিয়া, (৩) শাহিন মিয়া, পিতা: টুনু মিয়া, (৪) কাহার মিয়া, পিতা: আব্দুল হাকিম, (৫) শামসুদ্দিন, পিতা: আব্দুল নূর, (৬) আছাব উদ্দিন, পিতা: আব্দুল নূর, (৭) রিয়াজ উদ্দিন, পিতা: আদ্দুন নুর (৮) মিজান মিয়া, পিতা: আশিক উদ্দিন, (৯) আব্দুল আজিজ, পিতা: আব্দুল হাকিম সহ অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে দ্যা, লাঠি ও রড সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মকবুল আলীর বাড়ীর সামনে আসা মাত্র তারা এলোপাতাড়িভাবে শানুর আলীর উপর মারধর শুরু করে এবং বলে মামলা তুলে নিতে। শানুর আলী তখন স্বাক্ষর দিতে বা মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করলে তারা আবার মারধর শুরু করে। শানুর আলীর আর্তচিৎকারে বাড়িতে থাকা শানুর আলীর বোন লাল বিবি এগিয়ে আসলে মারামারি ভাঙ্গানোর চেষ্টা করলে বোনকেও শ্লীহনতাহানি ও মারপিট করে ফেলায় যখম করে রাস্তার মধ্যে ফেলে পা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এদিকে ভোক্তভোগীরা জানায় হামলাকারীদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা বিএনপি নামধারী ছত্র ছায়ায় সন্ত্রাসী লোক বলে ন্যায় বিচারে বঞ্চিত আমাদের পরিবার। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখল করা এবং মামলা হতে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া। শানুর আলী জানান, আমি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়, থনায় অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু পুলিশের রহস্যজনক নিরবভূমিকা পালন করায় স্ত্রী শিফা বেগম বাদি হয়ে গত ২৫/০৫/২০২৬ ইংরেজী তারিখে  আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৮/২৬। মামলা দায়েরের ১ সাপ্তাহ পর পুলিশ সরেজমিনে আসামিদের সাথে আলাপ করে গ্রেপ্তার না করে রহস্যজনক কারণে পুলিশ নিরব ভূমিকায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর আসামিরা শানুর আলীর বাড়িতে লাঠিসোটা নিয়ে এসে ঘড় ভাংচুরের চেষ্টা করে এবং আদালতে ২ টি মামলা দ্রুত তুলে নেওয়ায় হুমকি দেয়। তারা বলে মামলা তুলে না নিলে তোমাদের ঘড় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারবো। তোমার পা ভেঙে স্বাস্হি হয় নাই বলে গালাগালি করে হুমকি দিয়ে যায়। তবে এব্যাপারে স্হানীয় পুলিশকে জানালেও তারা শুধু নিরব ভূমিকা পালন করে। আজ প্রায় ৩ বছর যাবত তারা শানুর আলীর পরিবারের উপর নানা ভাবে অত্যাচার করে। এদিকে মামলার বাদী জানায় প্রায় ১ বছর পূর্বে এব্যাপারে সিলেট পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ জানালেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। গত ২৭/০৭/২০২৬ ইংরেজি তারিখে সকাল ৯ ঘঠিকার দিকে আমাকে বাড়ির সামনের রাস্তায় একা দেখতে পেয়ে আমার স্ত্রীর ও আমার দায়ের করা আদালতের মামলা তুলে নিতে লাঠিসোটা ও  রামদ্যা নিয়ে বিবাদীগন পূনরায় আমাকে মারার জন্য উদ্দুদ্ধ হয়। তখন আমার স্ত্রীর পায়ে রামদ্যা দিয়ে আগাত করে রক্তাক্ত করে। এসময় স্ত্রী শিফা বেগমের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে প্রাণে রক্ষা পাই।  তবে এসময় হামলাকারীরা আদালতের মামলাগুলো প্রত্যাহার না করলে পরিবারের কেহ রক্ষা পাবে না বলে হুমকি দিয়ে যায়। তবে এব্যাপারেও বিশ্বনাথ থানা অফিসার ইন-চার্জ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমতাবস্থায় শানুর আলীর মামলা দামা চাপা দিতে সম্পূর্ণ  মিথ্যা ও বানোয়াট ভাবে তথ্য সাজিয়ে গত ০১/০৮/২০২৬ ইং তারিখে একটি মিথ্যা ও সড়যন্ত্রমূলক মামল দায়ের করে টুনু মিয়া গং। ঐ মামলায় তাহারা বলেছে ০১/০৮/২০২৬ ইং রাত শানুর আলী ও শানুর আলীর ছেলে তাহার উপর হামলা চালায়। কিন্তু প্রকৃত  পক্ষে তাদেরই হামলায় শানুর আলী আজ প্রায় পঙ্গু। শানুর আলী সাধারণ ভাবে হাঠতে পারে না, ভগলি দিয়ে কোনো রকম হাঠতে হয়। শানুর আলী আবার কিভাবে হামলা করবে এবং  তাহার ছেলে একজন প্রতিবন্ধী । আসলে এটি একটি সমপূর্ণ সড়যন্ত্রমূলক শানুর আলীকে নাজেহাল করার উদ্দেশ্যে তাহারা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করার পরও তাহারা শান্ত হয়নি। তাহারা নিজের ঘড় জ্বালিয়ে মামলা দিচ্ছে। জানা গেছে, নিজে মটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে শানুর আলীর পরিবাবের উপর মামলা দিচ্ছে।  প্রকৃত ঘটনা দামা ছাপা দিতে তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় বর্তামানে শানুর আলী ও তাহার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগিতেছে। এদিকে মামলা তদন্তকারীর সাথে আমাদের প্রতিবেদক মুঠোফোনে আলাপ করলে জানান আসামীদেরকে খুজে পাচ্ছি না, আমরা যথাসময়ে গ্রেপ্তার করবো বলে মুঠোফোন কেঠে দেন। এদিকে শানুর আলীর মামলার এক আসামীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে আসামী আলামীন জানান মামলার কেনো কাগজ দেয়া যাবে না বলে ফোন কেঠে দেন। এমতাবস্থায় প্রেক্ষিতে শানুর আলীর  পরিবারের উপর সড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা ও পৈত্রিক ভূমি উদ্ধারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শুদৃষ্টি কামনা করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন