শেখ সাজেদুল হক বোরাক, স্টাফ রিপোর্টার :
মাদারীপুরের রাজৈরে ইজিবাইক চালক রাকিবুল ইসলাম ও তাঁর খালাতো ভাই আসিক শেখকে হাতুড়ি, লোহার রড, রেঞ্চ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৭ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত রাকিবুল ইসলামের বোন লাইজু বেগম রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজৈর পৌরসভার পশ্চিম রাজৈর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে সোহেল চৌকিদার, সাগর ফকির, সামিম ফকির, ইমন ফকির ও রহিত শেখের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার রাতে সোহেল চৌকিদার ফোন করে রাকিবুল ইসলামকে তাঁর গ্যারেজে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পথরোধ করে গালিগালাজ করেন। এ সময় রাকিবুল ও তাঁর খালাতো ভাই আসিক শেখ প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সাগর ফকিরের লোহার রডের আঘাতে রাকিবুলের পিঠে জখম হয়। সামিম ফকিরের রেঞ্চের আঘাতে তাঁর দুই হাতের বাহুতে এবং ইমন ফকিরের হাতুড়ির আঘাতে ডান হাতের তালুতে আঘাত লাগে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এ ছাড়া লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চলে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত। এ সময় রাকিবুল ও আসিকের কাছে থাকা দুটি স্মার্টফোন এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করেছেন লাইজু বেগম।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত রাকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইজিবাইক ছিনতাই, অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে লাইজু বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজৈর থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
